জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। আজ রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের সূচনা হয়। বাংলাদেশের অভিবাসীদের জন্য ইতালি সবসময় উদার মনোভাব দেখিয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম বড় গন্তব্য ইতালি।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারের ফলে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনসম্মত মাইগ্রেশনের লক্ষ্যে ইতালি কাজ করে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতালি সরকার প্রতি বছর বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রেও ইতালিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইতালির বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ইতালির পুরোনো বন্ধু। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালি সরকার সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সংসদের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি আরও বিস্তৃত করতে ইতালি সরকার আগ্রহী।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইতালিতে রপ্তানি হয়।
সাক্ষাতে দুই পক্ষ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মজুত থাকা গ্যাস ও তেল সম্পদ উত্তোলনে ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্পিকার।
সাক্ষাৎকালে ইতালির দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ