খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বসেরা দক্ষিণ কোরিয়া

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্য এখন নজর কাড়ছে বিশ্বজুড়ে। দেশটিতে গৃহস্থালির খাদ্য বর্জ্য ল্যান্ডফিলে যাওয়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

2026-09-19T19:18:53+06:00
2026-09-19T19:20:53+06:00
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অন্যান্য
খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বসেরা দক্ষিণ কোরিয়া
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম  আপডেট: ১৯.০৯.২০২৬ ৭:২০ পিএম
খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বসেরা দক্ষিণ কোরিয়া
খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্য এখন নজর কাড়ছে বিশ্বজুড়ে। দেশটিতে গৃহস্থালির খাদ্য বর্জ্য ল্যান্ডফিলে যাওয়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবার সেই মডেল অনুসরণ করে খাদ্য বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইয়েওইদো এলাকায় বাসিন্দা সেউংহোয়ান হং প্রতি সপ্তাহের সবজির খোসা, পড়ে থাকা ভাত ও ফলের খোসা নিয়ে যান আবাসিক ভবনের খাদ্য বর্জ্য ফেলার স্মার্ট বিনে। সেখানে কার্ড স্ক্যান করলেই বিনের ঢাকনা খুলে যায়। বর্জ্যের ওজন পর্দায় দেখা যায় এবং সেই অনুযায়ী বাসিন্দার হিসাবে নির্দিষ্ট ফি যোগ হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে এক মিনিটেরও কম।

১৯৯০-এর দশক থেকে খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৯৬ সালে দেশটির খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ স্মার্ট বিন। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব বিনে বর্জ্যের ওজন ও ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের সরকারি হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার স্মার্ট বিন চালু রয়েছে, যা ৮৬ লাখের বেশি পরিবারকে সেবা দিচ্ছে।

সংগৃহীত খাদ্য বর্জ্যের একটি বড় অংশ বায়োএনার্জি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। মধ্যাঞ্চলের দেজন বায়ো এনার্জি সেন্টার তার গ্রহণ করা বর্জ্যের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পুনর্ব্যবহার করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রায় ৬ হাজার পরিবারের দৈনিক চাহিদা মেটাতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মডেল অনুসরণে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসিন্দাদের খাদ্য বর্জ্য আলাদা করে রাখার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় ৩৪ লাখ পরিবারকে আওতাভুক্ত করা এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্গানিক বর্জ্য পুনরুদ্ধার উদ্যোগ।

তবে নিউইয়র্কে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নিয়ম না মানায় ৬৩ হাজারের বেশি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরজুড়ে ৪০০টির বেশি স্মার্ট কম্পোস্টিং বিন বসানো হয়েছে।

২০২৫ সালে নিউইয়র্কের আবাসিক এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। তবে এটি বছরে উৎপন্ন মোট আবাসিক খাদ্য বর্জ্যের মাত্র ৯ শতাংশ। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৯৭ শতাংশ পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিউইয়র্ককে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

জ/রা




  বিষয়:   দক্ষিণ কোরিয়া  খাদ্যবর্জ্য  বিশ্বসেরা 



Advertisement
Loading...
Loading...
অন্যান্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]