বিমানের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রটোকল সুবিধা ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অন্যান্য

বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক রুট-প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। নিজেকে ‘জিয়া পরিবারের’ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানো, আন্তর্জাতিক রুটে মানবপাচারে একটি চক্রকে সহযোগিতা, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং বিমানবন্দরের বিশেষ প্রটোকল সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

2026-09-14T21:27:57+06:00
2026-09-14T21:27:57+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অন্যান্য
‘জিয়া পরিবারের’ নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার
বিমানের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রটোকল সুবিধা ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম 
ছবি- জবাবদিহি
বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক রুট-প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। নিজেকে ‘জিয়া পরিবারের’ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানো, আন্তর্জাতিক রুটে মানবপাচারে একটি চক্রকে সহযোগিতা, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং বিমানবন্দরের বিশেষ প্রটোকল সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রচার করে এহসানুল কবির বিমানবন্দরে নিজের একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। অভিযোগে ‘জিয়া পরিবারের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, টরন্টো, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ইতালিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পাঠানোর নামে একটি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট ও অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে যাত্রী পাচারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ, টিকিটের ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরের ভেতরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের নথি, সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের তথ্য, টিকিটিংয়ের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া অভিযোগে মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পাস ও নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের সুযোগ নিয়ে। অভিযোগে জানতে চাওয়া হয়েছে, একজন গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তি কীভাবে বিশেষ প্রটোকল সুবিধা বা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে তাঁর নামে ইস্যু করা নিরাপত্তা পাস, প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড, দায়িত্বের পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাঁর চলাচলের অনুমোদন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে পোস্টিং পাইয়ে দেওয়া এবং বদলি ঠেকিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থল পরিবর্তন, নিয়োগ বা দায়িত্ব বণ্টনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিযোগে ওঠা সময়ের সঙ্গে তাঁর আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
দুদক ও বেবিচকের কাছে দেওয়া অভিযোগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পাস, প্রটোকল সুবিধা, দায়িত্ব পালনের নথি, আন্তর্জাতিক রুটের টিকিটিং, যাত্রীসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন-বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় ব্যক্তিগত পরিচয় ও প্রভাবের দাবি ব্যবহার করে কেউ বাড়তি সুবিধা নিয়েছেন কি না, আর নিয়ে থাকলে এর পেছনে কারা রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. এহসানুল কবির বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমার প্রতিদ্ব›িদ্ব ও ফ্যাসিস্টের দোসররা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার সাথে জড়িত নই। আমি জাতীয়তাবাদী দলের সাথে যুক্ত বলে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।


জ/বা




  বিষয়:   অন্যান্য  বেবিচক  দুদক 



Advertisement
Loading...
Loading...
অন্যান্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]