পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশন, ভারতের আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-09-17T07:57:55+06:00
2026-09-17T07:57:55+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশন, ভারতের আপত্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ‘পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন’ কার্যকর করেছে পাকিস্তান ও চীন। এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটিকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সীমানা ও সমুদ্র বিষয়ক বিভাগ’-এর উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘চীন বিষয়ক বিভাগ’-এর মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার আনুষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে এই কমিশন। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

কমিশনের আওতায় সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়মিত কারিগরি সমন্বয় ও সীমান্ত জরিপের মাধ্যমে উভয় দেশ সীমান্ত-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনাতেও সহায়তা পেতে পারে।

তবে পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, ভারতের অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ডসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আইনি ভিত্তি এই কমিশনের নেই। ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

ভারত বরাবরই বলে আসছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শাকসগাম উপত্যকার মতো কিছু ভূখণ্ড চীনের হাতে তুলে দেওয়া অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এরও বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। ভারতের আপত্তির অন্যতম কারণ, করিডোরটির একটি অংশ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্য দিয়ে গেছে।

পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও অটল। তাঁর ভাষ্য, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। ভারতের পক্ষ থেকে এই তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

জয়সওয়াল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-এই পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত কখনোই ১৯৬৩ সালের তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’ স্বীকৃতি দেয়নি এবং বরাবরই এটিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে আসছে।

ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব অধিকৃত অঞ্চলের মর্যাদা পরিবর্তন কিংবা অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানান জয়সওয়াল।

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো তথাকথিত সীমান্ত সহযোগিতা ভারতের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর ভারতের সার্বভৌমত্বের কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের ‘নাটকীয়তায়’ না জড়িয়ে পাকিস্তানকে অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলো ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র। সূত্র: এনডিটিভি।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]