দুই দশকে কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি ছাড়াল ১৪ বিলিয়ন ডলার

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-13T10:19:08+06:00
2026-09-13T10:19:08+06:00
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
দুই দশকে কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি ছাড়াল ১৪ বিলিয়ন ডলার
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ২০ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইপিজেডটির উদ্বোধন করেন। দুই দশকের এই যাত্রায় কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর ২০০৭ সালের নভেম্বরে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথমবারের মতো পণ্য রপ্তানি হয়। পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখান থেকে পণ্য রপ্তানি করে।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইপিজেডটির রপ্তানি ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি শুধু তৈরি পোশাকনির্ভর নয়। গার্মেন্টসের পাশাপাশি এখান থেকে তাবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি শুসহ বিভিন্ন পণ্য বিদেশে যাচ্ছে। এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়ছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিটাগাং স্টিল মিলসের জায়গায় কীভাবে কর্ণফুলী ইপিজেড গড়ে উঠল এবং দুই দশকে এর শিল্প ও রপ্তানি কার্যক্রম কীভাবে বিস্তৃত হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভির হোসেন, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ এবং কম্পবেলি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লি হেঙ্গো।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময় চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেড মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। নদীর তীরে অবস্থানের কারণে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে মিলটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যায় প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে লোকসানে পড়ে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডের (সিএসএম) কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং যে এলাকায় একসময় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিকের আনাগোনা ছিল, সেখানে নেমে আসে নীরবতা।

মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের সমাপ্তির মধ্য দিয়েই নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়। ওই অচলাবস্থা কাটিয়ে জায়গাটিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন।

এরপর স্টিল মিলের জায়গায় ইপিজেড স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পতেঙ্গার ওই এলাকার পুনরুজ্জীবন, নতুন কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই বেপজার অধীনে নতুন করে শিল্পায়নের উদ্যোগ শুরু হয়।

২০০৪ সালে দুই ধাপে স্টিল মিলের জমি বেপজার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০ ডিসেম্বর ১৪৮ দশমিক ৪২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। অর্থাৎ বিলুপ্ত চিটাগাং স্টিল মিলসের পুরো জমিই আনুষ্ঠানিকভাবে বেপজার কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে জমি উন্নয়ন করে সেখানে গড়ে তোলা হয় আধুনিক ও পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। আধুনিক অবকাঠামো, কারখানা ও প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে নতুন এই শিল্পকেন্দ্র। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী ইপিজেডের উদ্বোধন করেন।

ইপিজেডটির বিনিয়োগ পরিস্থিতিও দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীরা কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছেন। এসব দেশের মধ্যে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য।

২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডে ২৫৮টি শিল্পপ্লট রয়েছে, প্রতিটির আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবন, যার মোট ফ্লোর স্পেস ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার। এসব প্লট ও ভবনের পুরোটাই ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে ৪০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ মালিকানাধীন এবং আটটি দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

ইপিজেড কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]