৮০-এর দশকে ফিরে গেলে কী করবেন?

ফিচার ডেস্ক

ফিচার

2026-09-10T21:47:30+06:00
2026-09-10T21:47:30+06:00
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ফিচার
৮০-এর দশকে ফিরে গেলে কী করবেন?
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
এখন চলছে ২০২৬ সাল। হাতে স্মার্টফোন, ডিজিটাল টাকা, এক ক্লিকেই পৃথিবীর খবর সামনে চলে আসে। তার ওপর চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। এমন সময়ে হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, ফিরে গেছেন ১৯৮০-এর দশকে!

সেই সময় নেই ইন্টারনেট, নেই স্মার্টফোন, নেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এমনকি আপনার জন্মও হয়তো তখনো হয়নি। অথচ আপনার জানা আছে, পরবর্তী চার দশকে পৃথিবী কীভাবে বদলে যাবে। তাহলে সবার আগে কী করবেন?

সম্ভবত প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে চারপাশ দেখবেন। এরপরই শুরু হবে হিসাব-নিকাশ। কোরিয়ান ও চীনা ভাষার বেশ কিছু ফ্যান্টাসি ড্রামায় এমন গল্প দেখা যায়, যেখানে তরুণ-তরুণীরা সময় ভ্রমণ করে অতীতে গিয়ে নিজেদের বাবা-মায়ের জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার কারণে কখনো কখনো তাদের বর্তমান অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। অবশ্য এসব নিছক কল্পকাহিনি, বাস্তবে এমন কিছু সম্ভব নয়। তবু ভাবা যাক, আপনি সত্যিই সময় ভ্রমণ করে ১৯৮০-এর দশকে চলে গেলেন। বর্তমান পৃথিবী সম্পর্কে আপনার জানা আছে। তাহলে কী করবেন?

সোনা কিনবেন, নাকি জমি?

অতীতের তথ্য যদি আপনার মনে থাকে, তাহলে বিনিয়োগের চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক। আজকের দিনে সোনার দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে কিংবা জমির মূল্য কীভাবে বেড়েছে-এসব তো আপনার জানা। ফলে ৮০-এর দশকে ফিরে গেলে সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা কিনে রাখার কথা ভাবতেই পারেন।

একইভাবে শহর কিংবা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে-এমন এলাকায় জমি কেনার সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইবেন না। দীর্ঘমেয়াদে এসব সম্পদ পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে-এমন ধারণা তখন আপনার মাথায় থাকবেই।

তবে এখানেও রয়েছে বড় বাস্তব সমস্যা। আপনি ২০২৬ সালের মানুষ হলেও ১৯৮০-এর দশকে আপনার কাছে সেই সময়ের অর্থ, পরিচয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার কোনো প্রমাণ থাকবে না। ফলে সিনেমার মতো সহজে সবকিছু করা সম্ভব হতো না। তারপরও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলাই হতে পারত অন্যতম লক্ষ্য।

বিদেশে পড়তে যাবেন?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে শিক্ষা। আপনি যদি জানেন, আগামী কয়েক দশকে কোন কোন দেশ প্রযুক্তি, ব্যবসা কিংবা গবেষণায় এগিয়ে যাবে, তাহলে হয়তো বাবা-মাকে বলতেন-সুযোগ পেলে আমাকে বিদেশে পড়তে পাঠাও। এমনকি তাদেরও বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারতেন।

তবে এখানেও সময়ের বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮০-এর দশকের শিক্ষা, ভিসা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আজকের মতো ছিল না। তাই শুধু ‘ভবিষ্যৎ জানি’-এ কথা বললেই সব দরজা খুলে যেত না।

বরং ভালো শিক্ষা, বিদেশি ভাষা শেখা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং নিজের সক্ষমতা তৈরি করাকেই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেত।

 বাবা-মাকে কী বলবেন?

সম্ভবত এটাই হবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। আপনি যদি ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষ হন কিংবা ৮০-এর দশকের পর জন্ম নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই সময়ে ফিরে গিয়ে দেখবেন আপনার বাবা-মা তখন তরুণ। হয়তো তাদের সংসারই তখনো শুরু হয়নি। পৃথিবীতে আসেননি আপনিও।

তাহলে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কী বলবেন?

হয়তো বলবেন, ‘জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে ভেবো। শুধু সমাজ কী বলছে, তা দেখে বিয়ে কোরো না। নিজের পছন্দ, মানসিকতা আর মূল্যবোধকেও গুরুত্ব দাও।’

কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই সামনে আসবে ভয়ংকর একটি প্রশ্ন-আপনি যদি বাবা-মায়ের জীবনসঙ্গী বদলে দেন, তাহলে আপনার নিজের অস্তিত্বই হয়তো আর থাকবে না।

সময়ভ্রমণ নিয়ে তৈরি গল্পগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এখানেই। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মাই পার্ফেক্ট স্ট্রেঞ্জার’-এ অতীতে গিয়ে মায়ের জীবন ও বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ইচ্ছা এমন একটি প্রশ্নের জন্ম দেয়-মায়ের জীবন ভালো করতে গিয়ে যদি সন্তানটিই পৃথিবীতে না আসে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ভালো?

আবার কোরিয়ার ‘ফ্যামিলিয়ার ওয়াইফ’ সিরিজে অতীতে ফিরে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার পর পুরো বর্তমান জীবনই পাল্টে যায়। অর্থাৎ অতীতের একটি ছোট পরিবর্তনও ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

চীনা ড্রামার মধ্যেও সময়ভ্রমণ ও অতীত বদলে দেওয়ার গল্প বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘ক্লোজার টু ইউ’, ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু বি ফ্রেন্ডস উইথ ইউ’, ‘বিলংড টু ইওর ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘লাভ আন্ডার দ্য ফুল মুন’।

কোরিয়ার জনপ্রিয় টাইম ট্রাভেল ড্রামাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘টুইংকিলিং ওয়াটারমেলন’। এতে বর্তমান সময় থেকে এক ছেলে অতীতে চলে যায়, যেখানে তার বাবাকে দেখা যায় তার বর্তমান বয়সের চেয়েও কম বয়সী হিসেবে। বেশ মজার এই সিরিজটিও চাইলে দেখে নিতে পারেন।

নিজের অস্তিত্বের ঝুঁকি নেবেন?

ধরুন, আপনি জানেন আপনার বাবা-মায়ের সম্পর্কের কোনো একটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হবে। অতীতে গিয়ে আপনি সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিলেন। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় হয়তো তারা অন্য কাউকে বিয়ে করলেন। সেই সংসারে আপনার জন্মই হলো না।

এটাই সময়ভ্রমণের গল্পে সবচেয়ে আলোচিত ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। আপনি যে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে গেছেন, অতীতের পরিবর্তনের কারণে সেই ভবিষ্যৎই হয়তো আর অস্তিত্বশীল থাকবে না।

চীনা ও কোরিয়ান ফ্যান্টাসি নাটকে ‘দ্বিতীয় সুযোগ’, অতীত বদলে দেওয়া এবং সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নতুন করে নেওয়ার গল্প বারবার ফিরে আসে। দর্শকের সামনে প্রশ্ন তোলা হয়-অতীতের ভুল শুধরে দেওয়ার সুযোগ পেলেও তার মূল্য কতটা দিতে হবে?

হয়তো সবচেয়ে ভালো কাজ হবে বাবা-মাকে সময় দেওয়া

তাই সত্যিই যদি ৮০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত, তাহলে সোনা, জমি কিংবা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হতে পারত বাবা-মাকে একটু বেশি সময় দেওয়া।

তাদের তরুণ বয়সের গল্প শুনতেন। সংসার ও দায়িত্বের চাপে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো কী ছিল, সেগুলো জানার চেষ্টা করতেন। হয়তো তাদের বলতেন, নিজেদের জন্যও কিছু করতে।

আর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যতটা সম্ভব কম হস্তক্ষেপ করতেন। কারণ আপনি জানেন, একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিলেই হয়তো আপনার আজকের জীবনটাই আর থাকবে না।

বাস্তবে অবশ্য ২০২৬ সাল থেকে ১৯৮০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রমাণিত উপায় নেই। সময়ভ্রমণ এখনো পুরোপুরিই কল্পনার বিষয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন কয়েক সেকেন্ডেই এমন ছবি তৈরি করে দিতে পারে, যেখানে মনে হয় আমরা সত্যিই চার দশক আগের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি, তখন সেই কল্পনাটা যেন আরও জীবন্ত হয়ে উঠছে।

এআইয়ের তৈরি ছবিতে ৮০-এর দশকে ফিরে গিয়ে যতই মজা করা হোক না কেন, আসল সময়ভ্রমণ সম্ভব না হওয়াটাই হয়তো ভালো। কারণ অতীত বদলে দেওয়ার চেয়ে বর্তমানটাকে একটু ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ আমাদের হাতে এখনো আছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]