রানি প্রথম এলিজাবেথ: শাসন, রহস্য ও বিতর্কে ভরা এক জীবন

ফিচার ডেস্ক

ফিচার

2026-09-08T21:44:36+06:00
2026-09-08T21:44:36+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ফিচার
রানি প্রথম এলিজাবেথ: শাসন, রহস্য ও বিতর্কে ভরা এক জীবন
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে এসে অতীতের অনেক ঘটনা এখন আমাদের কাছে গল্পের মতো মনে হয়। রাজা-রানির শাসন, যুদ্ধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় সংঘাত, শোষণ ও নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী সেই সময়। ইতিহাসে এমন অনেক শাসকের নাম রয়েছে, যারা নিজেদের সময়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। তাদেরই একজন ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ।

সফল ও প্রভাবশালী শাসক হিসেবে প্রথম এলিজাবেথের নাম ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার প্রায় ৪৫ বছরের শাসনকাল ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিজীবন ঘিরেও তৈরি হয়েছিল নানা রহস্য ও বিতর্ক। বিশেষ করে তিনি কখনো বিয়ে না করায় তাকে ঘিরে ছড়িয়েছিল নানা ধরনের গুঞ্জন।

১৫৩৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের গ্রিনউইচে জন্মগ্রহণ করেন এলিজাবেথ। তার বাবা ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরি এবং মা তার দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যান বোলিন। মাত্র দুই বছর বয়সেই জীবনে বড় আঘাত আসে তার। অ্যান বোলিনকে শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড দেন রাজা অষ্টম হেনরি। এরপর সেবিকা ও পরে সৎমায়ের তত্ত্বাবধানে বড় হন এলিজাবেথ।

১৫৩৭ সালে তার সৎভাই এডওয়ার্ডের জন্মের পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আসেন তিনি। তবে রোমান ক্যাথলিকদের একটি অংশ তাকে অবৈধ সন্তান হিসেবে বিবেচনা করত। ১৫৫৪ সালে রানি মেরির বিরুদ্ধে ব্যর্থ বিদ্রোহের পর এলিজাবেথকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

১৫৫৮ সালের নভেম্বরে সৎবোন মেরির মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন এলিজাবেথ। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পাঁচটি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দৃঢ়তা ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে দ্রুতই তিনি নিজেকে একজন দক্ষ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ধর্মীয় সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
এলিজাবেথের শাসনামলে চার্চ অব ইংল্যান্ড আরও সুসংহত হয়। ১৫৬৩ সালে প্রণীত ৩৯টি ধর্মীয় বিধানের মাধ্যমে রোমান ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমন্বয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী ধর্মীয় সংঘাত থেকে ইংল্যান্ডকে দূরে রাখতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এলিজাবেথ সবসময় নমনীয় শাসক ছিলেন না। অনেক সময় তাকে স্বৈরাচারী ও খামখেয়ালি বলেও সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার বিচক্ষণতা ছিল উল্লেখযোগ্য। উইলিয়াম সেসিল, স্যার ক্রিস্টোফার হ্যাটন এবং স্যার ফ্রান্সিস ওয়ালসিংহ্যামের মতো দক্ষ ব্যক্তিদের তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ করেন।

সমুদ্রযাত্রা ও বাণিজ্যের প্রসার
তার শাসনামলে ইংল্যান্ডের সমুদ্রযাত্রা ও বিদেশি বাণিজ্যও বিস্তৃত হয়। ফ্রান্সিস ড্রেক, ওয়াল্টার র‍্যালি ও হামফ্রে গিলবার্টের মতো অভিযাত্রীরা আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযান পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের উপনিবেশ বিস্তার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করে।

১৫৯৯ সালের শেষ দিকে এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেন। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী সময়ে এশিয়ায় ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

শিল্প-সংস্কৃতির স্বর্ণসময়
এলিজাবেথের রাজত্ব শুধু রাজনীতি ও সামরিক সাফল্যের জন্য নয়, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশের জন্যও পরিচিত। এ সময় লংলিট ও হার্ডউইক হলের মতো স্থাপনা নির্মিত হয়। চিত্রশিল্প, সাহিত্য ও থিয়েটারেরও ব্যাপক প্রসার ঘটে।

শেক্সপিয়ারের ‘এ মিডসামার নাইটস ড্রিম’ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নে এলিজাবেথ উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। তার দরবারে উইলিয়াম বার্ড ও থমাস ট্যালিসের মতো বিখ্যাত সুরকারও কাজ করতেন।

স্পেনের সঙ্গে সংঘাত ও স্প্যানিশ আর্মাডা
এলিজাবেথের রাজত্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্পেনের সঙ্গে সংঘাত। ১৫৬৯-৭০ সালে উত্তর ইংল্যান্ডে বিদ্রোহ হয়। এর পর ১৫৭০ সালে পোপ এলিজাবেথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তার প্রজাদের আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন। এর পরই রোমান ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করেন রানি।

এ সময় স্কটল্যান্ডের রানি মেরি এলিজাবেথের জন্য বড় রাজনৈতিক হুমকি হয়ে ওঠেন। ১৫৬৮ সালে ইংল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়ার পর প্রায় ১৯ বছর এলিজাবেথের বন্দি ছিলেন মেরি। ১৫৮৬ সালের ব্যাবিংটন ষড়যন্ত্রে তার নাম জড়িয়ে পড়লে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচার হয়। পরের বছর, ১৫৮৭ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এর এক বছর পর, ১৫৮৮ সালে স্প্যানিশ আর্মাডার পরাজয় এলিজাবেথের শাসনামলের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে। প্রায় ১৩০টি জাহাজ নিয়ে স্পেন ইংল্যান্ড আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে ইংরেজ নৌবাহিনী স্প্যানিশ বহরকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইংল্যান্ডের মর্যাদা ও সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

অর্থনৈতিক চাপও ছিল
তবে এলিজাবেথের শাসনকাল পুরোপুরি সংকটমুক্ত ছিল না। বিশেষ করে ১৫৯০-এর দশকে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। স্পেনের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধও রাজকোষে বড় চাপ সৃষ্টি করে।

তৎকালীন হিসাবে তার শাসনামলের যুদ্ধগুলোতে ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি ব্যয় হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে উত্তরসূরির জন্য তিনি বড় অঙ্কের ঋণ রেখে যান।

কেন বিয়ে করেননি এলিজাবেথ?
ব্যক্তিজীবনে এলিজাবেথ কখনো বিয়ে করেননি। বিদেশি কোনো রাজপুত্রকে বিয়ে করলে ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি তার প্রভাবের মধ্যে চলে যেতে পারত। আবার কোনো ইংরেজকে বিয়ে করলে রাজদরবারে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ফলে বিয়ের সম্ভাবনাকেও তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন।

এভাবেই তিনি ‘ভার্জিন কুইন’ বা ‘কুমারী রানি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাকে এমন একজন শাসক হিসেবে তুলে ধরা হয়, যিনি ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে রাষ্ট্র ও প্রজাদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

১৬০১ সালের ‘গোল্ডেন স্পিচ’-এ পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে এলিজাবেথ বলেছিলেন, তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন হলো প্রজাদের ভালোবাসা। তার দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেন।

এলিজাবেথ নারী ছিলেন, নাকি পুরুষ-বিতর্ক কোথা থেকে?
এলিজাবেথের বিয়ে না করার বিষয়টি ঘিরে একসময় আরও অদ্ভুত একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ দাবি করেন, সিংহাসনে বসা ব্যক্তি আসলে রাজা অষ্টম হেনরি ও অ্যান বোলিনের কন্যা এলিজাবেথ নন; বরং তিনি ছিলেন একজন পুরুষ।

এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করে একটি গল্পও প্রচলিত হয়। বলা হয়, এলিজাবেথের বয়স যখন ১০ বছর, তখন ইংল্যান্ডে বুবোনিক প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। রাজা হেনরি মেয়েকে নিরাপদ রাখতে সৈন্য-সামন্তসহ বিসলে নামের একটি গ্রামে পাঠান। সেখানে থাকার সময় এলিজাবেথ মারা যান বলে দাবি করা হয়।

কিন্তু তার সেবিকা নাকি রাজার কাছে সেই খবর প্রকাশ করেননি। কারণ সত্য জানালে নিজের জীবন নিয়েও বিপদ তৈরি হতে পারত। এরপর একই রকম লালচে চুলের কোনো মেয়েকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ছেলেকে রাজকন্যা এলিজাবেথের পোশাক ও পরচুলা পরিয়ে রাজার সামনে হাজির করা হয়-এমনটাই দাবি করা হয় ওই গল্পে।

১৮০০-এর দশকে বিসলেতে একটি কফিন আবিষ্কারের ঘটনাকেও এই তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এক ধর্মগুরু দাবি করেছিলেন, কফিনের মৃতদেহটি রেনেসাঁ যুগের উচ্চবিত্ত পরিবারের কোনো তরুণীর। দামি পোশাক ও লালচে চুলের কারণে কেউ কেউ সেটিকে এলিজাবেথের মরদেহ বলে ধারণা করেন। কথিত আছে, তার সেবিকা গোপনে মরদেহটি সেখানে সমাহিত করেছিলেন।

তবে এই পুরো ঘটনা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে স্বীকৃত নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত কাহিনি ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব।

কেন আরও ছড়িয়েছিল এই গুজব?
এলিজাবেথের আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবনও এই গুজবকে উসকে দেয়। তিনি একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সিংহাসনে বসার পর বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বলেও বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তার ব্যক্তিগত কক্ষে নির্বাচিত কয়েকজন দাসী ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার ছিল না। বিশ্বস্ত কয়েকজন চিকিৎসকই তার চিকিৎসা করতেন। জনসমক্ষে তিনি পরচুলা ব্যবহার করতেন। এমনকি তার মৃত্যুর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার নির্দেশ ছিল বলেও দাবি করা হয়।

লেখক স্টিভের একটি দাবিতে বলা হয়, এলিজাবেথের এই গোপন পরিচয়ের কথা কেবল তার প্রধান মন্ত্রী উইলিয়াম সেসিল জানতেন। তবে সেসিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে ওই লেখকের দাবি। তার যুক্তি ছিল, সত্য প্রকাশিত হলে ইংল্যান্ডে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, কারণ টিউডর বংশের উত্তরাধিকার নিয়ে তখন বড় ধরনের সংকট দেখা দিত।

স্টিভ আরও দাবি করেন, লন্ডনে ফিরে পড়াশোনা শুরু করার পর এলিজাবেথের আচরণে পরিবর্তন দেখে তার গৃহশিক্ষক বিস্মিত হয়েছিলেন। তার শারীরিক গঠনও নাকি আগের তুলনায় পুরুষালি হয়ে উঠেছিল। এলিজাবেথের আগের ও পরের প্রতিকৃতির মধ্যেও এই পার্থক্য দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ইতিহাসবিদদের বড় একটি অংশ এই তত্ত্বকে গ্রহণ করেননি। তাদের যুক্তি, রাজা অষ্টম হেনরি নিজের মেয়েকে চিনতে পারবেন না-এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। এছাড়া এলিজাবেথের শারীরিক গঠন নারীদের মতোই ছিল। তার চিকিৎসকদের বক্তব্যের উদ্ধৃতিও পাওয়া যায় যে, মৃত্যুর পর তার শরীরে নারীদের স্বাভাবিক মাসিক চক্রের প্রমাণ ছিল।

রূপচর্চা নিয়েও নানা বিতর্ক
রাজনীতি ও রহস্যের পাশাপাশি এলিজাবেথের সাজসজ্জা নিয়েও ইতিহাসে নানা গল্প রয়েছে। তিনি নাটক ও নাচ পছন্দ করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্যাশন সম্পর্কেও ছিলেন সচেতন। গহনা ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক তার পছন্দের ছিল। তার অনেক পোশাকে সোনা ও রুপার ব্যবহার থাকত।

মুখে ফ্যাকাশে ভাব আনতে তিনি বিশেষ ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। এমনকি মুখের রং আরও ফ্যাকাশে করতে জোঁক ব্যবহারের গল্পও প্রচলিত আছে। জোঁক রক্ত শুষে নেওয়ায় মুখ ফ্যাকাশে দেখাত-এমন ধারণা থেকে এই পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়।

কথিত আছে, অতিরিক্ত প্রসাধন ও রূপচর্চাই শেষ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এসব দাবির সবগুলো সমানভাবে প্রমাণিত নয়; চিকিৎসক ও ইতিহাসবিদদের বিভিন্ন বিশ্লেষণে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

মৃত্যু ও টিউডর বংশের অবসান
১৬০৩ সালের ২৪ মার্চ রিচমন্ড প্যালেসে মারা যান রানি প্রথম এলিজাবেথ। জীবিত অবস্থাতেই তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

তার মৃত্যুর পর স্কটল্যান্ডের ষষ্ঠ জেমস ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন এবং প্রথম জেমস নামে রাজত্ব শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে টিউডর রাজবংশের অবসান ঘটে।

সফল শাসন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামরিক বিজয়, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ এবং ব্যক্তিজীবন ঘিরে অসংখ্য রহস্য-সব মিলিয়ে প্রথম এলিজাবেথ আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত নারী শাসক। তার জন্মদিনে তাই ফিরে আসে শুধু একজন রানির গল্প নয়, বরং কয়েক শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক অধ্যায়।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]