দুই টেনিস কোর্টের সমান ‘দেশ’, স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন

ফিচার ডেস্ক

ফিচার

2026-09-05T10:07:00+06:00
2026-09-05T10:07:00+06:00
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ফিচার
দুই টেনিস কোর্টের সমান ‘দেশ’, স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৭ এএম 
দুই টেনিস কোর্টের সমান ‘দেশ’, স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন
সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি দুর্গ। আয়তনে প্রায় দুটি টেনিস কোর্টের সমান। অথচ সেই দুর্গেরই রয়েছে নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, মুদ্রা, পাসপোর্ট, রাজপরিবার এমনকি ‘জাতীয় পরিচয়’ও। নাম-প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড।

অবাক করার মতো বিষয় হলো, একসময় এই দুর্গে ২৭ জন বাসিন্দা থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র একজন।

ইংল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে উত্তর সাগরে অবস্থিত সিল্যান্ড। এটি কোনো প্রাকৃতিক দ্বীপ বা ভূখণ্ড নয়; বরং সমুদ্রের মধ্যে নির্মিত একটি পুরোনো দুর্গের ওপর গড়ে ওঠা স্বঘোষিত রাষ্ট্রসত্তা। বাইরে থেকে জায়গাটি বিশাল ধাতব কাঠামোর মতো দেখতে।

যুদ্ধের সময় তৈরি দুর্গ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিমান ও সমুদ্রপথের হামলা প্রতিরোধে ব্রিটেন উত্তর সাগরে বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক দুর্গ নির্মাণ করে। সেগুলোর একটি ছিল রাফস টাওয়ার। যুদ্ধ চলাকালে সেখানে শতাধিক নৌসেনা অবস্থান করতেন।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দুর্গটির সামরিক গুরুত্ব কমে যায়। ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ বাহিনী সেটি পরিত্যাগ করে। এরপর দীর্ঘ সময় সমুদ্রের মাঝে পড়ে থাকা এই কাঠামোটিই পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্বঘোষিত ‘দেশগুলোর’ একটি হয়ে ওঠে।

১৯৬৭ সালে শুরু নতুন অধ্যায়
১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর প্যাডি রয় বেটস রাফস টাওয়ার দখল করেন। শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল সেখানে একটি পাইরেট রেডিও স্টেশন পরিচালনা করা। কিন্তু পরে তিনি দুর্গটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বড় ঘোষণা দেন।

রয় বেটস ঘোষণা করেন, রাফস টাওয়ার আর ব্রিটেনের অংশ নয়। তিনি এর নাম দেন ‘প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড’ এবং নিজেকে এর শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।

এরপর ধীরে ধীরে সিল্যান্ডের জন্য আলাদা পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সংগীত, পাসপোর্ট, ডাকটিকিট ও মুদ্রা চালু করা হয়। এর শাসনব্যবস্থাও বেটস পরিবারের হাতেই থেকে যায়।

একসময় ২৭, এখন স্থায়ী বাসিন্দা একজন
সিল্যান্ডের জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুরোনো কিছু তথ্যসূত্রে সেখানে একসময় ২৭ জন বাসিন্দা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিল্যান্ডকে ‘২৭ জনের দেশ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র একজন। সিবিএসের এক প্রতিবেদনে ওই একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দাকে সিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস-সংক্রান্ত দায়িত্বও পালন করতে দেখা গেছে।

অবশ্য সিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা একজনেই সীমাবদ্ধ নয়। সিল্যান্ডের নিজস্ব দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের নাগরিক ও সমর্থকদের একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রয়েছে। তবে দুর্গটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিষয়টি আলাদা।

আছে নিজস্ব মুদ্রা, রাজপরিবারও
সিল্যান্ডের নিজস্ব মুদ্রার নাম ‘সিল্যান্ড ডলার’। আন্তর্জাতিকভাবে এটি প্রচলিত কোনো মুদ্রা নয়। তবে প্রতীকী ব্যবহারের পাশাপাশি সংগ্রহযোগ্য মুদ্রা হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

সিল্যান্ডের রয়েছে নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বেটস পরিবার বংশানুক্রমিকভাবে এর রাজপরিবারের ভূমিকা পালন করে আসছে। রয় বেটসের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাইকেল বেটস শাসনভার গ্রহণ করেন।

সিল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসাইটেও অঞ্চলটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে পতাকা, সংবিধান, মুদ্রা, পাসপোর্ট ও রাজপরিবারসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে কি সত্যিই একটি দেশ?
সিল্যান্ড নিজেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। জাতিসংঘের সদস্যও নয় এটি। বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রও সিল্যান্ডকে স্বাধীন দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ কারণে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রচলিত সংজ্ঞায় সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিবর্তে সাধারণত ‘মাইক্রোনেশন’ বা স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে সিল্যান্ডের ইতিহাসে আইনি ঘটনাও রয়েছে। ১৯৬৮ সালে সিল্যান্ডের কাছাকাছি একটি ঘটনায় ব্রিটিশ আদালত দুর্গটির ওপর নিজেদের এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারেনি। সিল্যান্ডের সমর্থকেরা ঘটনাটিকে তাদের রাষ্ট্রীয় দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন। তবে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

১৯৭৮ সালে ‘অভ্যুত্থান’
সিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৭৮ সালে। একদল জার্মান ও ডাচ ভাড়াটে যোদ্ধা দুর্গটি দখল করে নেয় এবং মাইকেল বেটসকে জিম্মি করে। পরে রয় বেটসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুর্গটি পুনর্দখল করা হয়। এই ঘটনার পর সিল্যান্ড ‘দেশ’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে আরও পরিচিতি পায়।

পরবর্তী সময়েও দুর্গটিকে ঘিরে নানা ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আগুন লাগার ঘটনা যেমন রয়েছে, তেমনি ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

উত্তর সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছোট্ট দুর্গটি আজও সিল্যান্ডের প্রতীক। আয়তনে ক্ষুদ্র, স্থায়ী বাসিন্দা মাত্র একজন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা, রাজপরিবার ও দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে প্রিন্সিপালিটি অব সিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত স্বঘোষিত মাইক্রোনেশনগুলোর একটি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]