ইন্দোনেশিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে শঙ্কা তৈরি করেছিল টাইগ্রেসরা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ। সেখানে অবশ্য দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। অনলাইনে দেখা যাবে স্পোর্টসজিফাই অ্যাপে।
গ্রুপ পর্বে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য। ‘এ’ গ্রুপে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় নিয়ে শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। থাইল্যান্ড ও হংকংকে হারানোর পর পাকিস্তানকেও মাত্র ৫৫ রানে অলআউট করে ভারত জিতেছে ৭ উইকেটে।
বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের স্পিন আক্রমণ ছিল ভয়ংকর। শ্রী চরনী ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। প্রেমা রাওয়াতও নিয়েছেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এর আগে হংকংয়ের বিপক্ষে স্মৃতি মান্ধানা খেলেছেন ১২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। সেই ম্যাচেই আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথটা ছিল কঠিন। শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হারার পর শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতেই হতো নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ করে ১০৩ রান। শারমিন আক্তার সুপ্তা ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
পরে বাংলাদেশের বোলাররা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬৯ রানে আটকে দিয়ে ৩৪ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ফলে ‘বি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে স্পিন আক্রমণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচে রাবেয়া খান ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট। দুবাইয়ের উইকেটে স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন, ফলে বাংলাদেশের স্পিনারদের ওপর আবারও বড় দায়িত্ব থাকবে।
তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং। ভারতের বোলিং ইউনিটে দীপ্তি শর্মা, শ্রী চরনী ও প্রেমা রাওয়াতের মতো স্পিনার রয়েছেন। সঙ্গে রেণুকা ঠাকুর ও ক্রান্তি গৌড়ের পেস আক্রমণও আছে। ফলে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট ধরে রাখা এবং মাঝের ওভারগুলোতে স্পিন সামলানোই বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
ভারতের ব্যাটিংয়েও রয়েছে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি। স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মা ও প্রতীকা রাওয়ালের পর অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা আছেন। মান্ধানা ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টে নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ দিয়েছেন।
তবে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে ম্যাচের ফলাফল। সেখানে বাংলাদেশ যদি ভালো করতে পারে, তাহলে জয় খুব কঠিন কিছু নয়। তবে সেজন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদের।
জ/বা