রংপুরে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ঋতুচক্রের হিসাবে এখন শরৎকাল। তবে এ সময়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও ভোর ও রাতে কুয়াশার সঙ্গে হালকা শীতের অনুভূতি হচ্ছে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও বাড়ছে।
কয়েক দিন আগেও তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে থাকে। শুরু হয় বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির কারণে প্রকৃতি কিছুটা শীতল হয়ে এসেছে। ভোরে কুয়াশার সঙ্গে হালকা শীতের অনুভূতি মিলছে। সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এদিকে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার প্রায় সারা দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ১২ ঘণ্টায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। টানা বৃষ্টির কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রংপুর বিভাগের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা বেড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ দশমিক ৭৬ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। একই সময়ে ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
আজ বুধবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ২৮ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার। দুই পয়েন্টেই পানির প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ/উ