অবকাঠামোগত সংকটে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রাম (রংপুর) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-09-09T17:40:15+06:00
2026-09-09T17:40:15+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
অবকাঠামোগত সংকটে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
কুড়িগ্রাম (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম 
অবকাঠামোগত সংকটে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
বেকারত্ব দূরীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশে দিন দিন বাড়ছে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব। হাতে-কলমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেই দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। তবে কারিগরি শিক্ষার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নানা অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছেন কারিগর তৈরি করার কারিগর কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা।

কুড়িগ্রাম শহরের কৃষ্ণপুর এলাকায় অবস্থিত কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে সিভিল, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কনস্ট্রাকশন, আর্কিটেকচার ও মেকানিক্যাল এই সাতটি বিভাগে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। তবে প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নেই আবাসিক হোস্টেল, নিজস্ব খেলার মাঠ ও নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থা।

কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। নিজস্ব আবাসিক হোস্টেল না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি আবাসন নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন ও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন।

সিভিল টেকনোলজির ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি টাকা খরচ করে মেসে থাকতে হচ্ছে। হোস্টেল থাকলে খরচ কমার পাশাপাশি পড়াশোনার পরিবেশও ভালো হতো। একই সাথে আমরা নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা সঙ্কামুক্ত থাকতাম।

আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমস্যা যাতায়াত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় নিজস্ব ব্যবস্থায় ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়। বিশেষ করে দূরের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে আসে। নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবহন থাকলে আমাদের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমত।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনেও সমস্যায় পড়তে হয়। তাদের দাবি, খেলাধুলার জন্য অনেক সময় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ও জেলা স্টেডিয়াম মাঠের ওপর নির্ভর করতে হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহারে অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা ও টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব হয় না।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কনস্ট্রাকশন টেকনোলজির শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের নিজস্ব মাঠ নেই। অন্য প্রতিষ্ঠানের মাঠে খেলতে গেলে অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে নিয়মিত খেলাধুলা করা সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ, নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থা চালু, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নিজস্ব খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হোক।

কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংকট নিরসন বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. তাজুল ইসলামের বক্তব্য বলেন, ডিসি ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহুবার চিঠি দিয়ে সংকট সম্পর্কে জানিয়েছি। আমরা এর কোন প্রতি উত্তর পাইনি। খুব তাড়াতাড়ি সংকট নিরসনে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংকট নিরসনে কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ড. আতিক মুজাহিদ জানান, হোস্টেল পরিবহন ও নিজস্ব খেলার মাঠের সংকটের কথা তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুনেছেন। শিগগিরই পলিটেকনিক পরিদর্শন করে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখবেন এবং ইনস্টিটিউট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই ডিও লেটার দেওয়া হবে।

কারিগরি শিক্ষা যখন দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তখন কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের এসব মৌলিক সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবাসন, পরিবহন ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শিক্ষাবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে।





Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]