নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে—প্রশাসনের এমন দাবি। কিন্তু মাঠের চিত্র ভিন্ন। নাটোরের গুরুদাসপুরের চলনবিলের নদী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও প্রবাহপথে প্রকাশ্যেই বসানো হচ্ছে অবৈধ সোঁতি জাল। নির্বিচারে ধরা পড়ছে মাছের পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ। একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। হুমকিতে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র্য; শঙ্কা তৈরি হচ্ছে চলনবিলের কৃষি নিয়েও।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার হরদমা জলার শেষ প্রান্তে, চলনবিলে পানি প্রবেশের পথে সোঁতি জাল বসিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে আত্রাই নদীর সাবগাড়ি বাজার এলাকা ও জ্ঞানদানগর সামাদের ঘাটে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জালের এমন ব্যবহার প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না সোঁতি জালের ব্যবহার। অভিযান শুরু হবার আগেই নতুন জাল সরিয়ে নেওয়া হয়। জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুরান জাল। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই এলাকায় আবার বসানো হয় নতুন জাল।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযান যদি কার্যকর হয়, তাহলে অভিযান-পরবর্তী সময়ে একই স্থানগুলোতে বারবার নিষিদ্ধ জাল বসানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে কীভাবে?
মৎস্য সংরক্ষণে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু জাল জব্দ ও ধ্বংস করে সমস্যার সমাধান হবে না। জালের মালিক ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযান-পরবর্তী নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
সোঁতি জালের ক্ষতি শুধু মাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি প্রবাহের পথে জাল বসানোর কারণে স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হয়। এতে বর্ষা শেষে পানি দ্রুত নামতে না পারলে কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলের পানি প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে এভাবে জাল বসানো হলে এর প্রভাব পড়তে পারে চলনবিলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন সাহা বলেন, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার মিল নেই। কারণ, অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থার কথা বলা হলেও হরদমা জলার শেষ প্রান্ত, আত্রাই নদীর সাবগাড়ি বাজার ও জ্ঞানদানগর সামাদের ঘাটে প্রকাশ্যেই সোঁতি জাল ব্যবহারের দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জাল উদ্ধার নয়, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযান-পরবর্তী নজরদারি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় অবৈধ সোঁতি জালের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকলে গুরুদাসপুরের নদী-বিলের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি চলনবিলের কৃষিনির্ভর জীবন-জীবিকাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জ/বা