সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ নেই। তবে অটোরিকশার সঙ্গে অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়ায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচি আয়োজন করে ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব।
রবিউল আলম বলেছেন, ‘আমরা অটোরিকশা ন্যাশনাল হাইওয়েতে চলার পক্ষে নই। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই এবং নিয়ন্ত্রণ করছি। কিন্তু এর একটা দৌরাত্ম্য আছে। ফলে অটোরিকশা কোথায় চলবে, কোথায় চলবে না এ ধরনের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা খুব দরকার।’
মন্ত্রী বলেছেন, হাইওয়ে পুলিশ ও হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করা দরকার। তবে কোনো নীতিমালাতেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, অটোরিকশার সঙ্গে এখন অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন এবং তারাও সমাজের একটি অংশ। একই সময়ে এটার এমন একটা ব্যবস্থাপনা আমরা চাচ্ছি যে, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে।’
সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের সহযোগিতাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি কীভাবে একটি নিয়ন্ত্রিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেছেন, অটোরিকশা যদি কোনো জায়গায় চলে, তাহলে এর একটা জবাবদিহি থাকা দরকার। যারা অটোরিকশা চালাবেন, তাদের ন্যূনতম একটি যোগ্যতা থাকা দরকার। এসব বিষয় নীতিমালার মধ্যে এনে শক্তভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়ে আমি বানাই, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং হাইওয়েতে চলাচলের জন্য যানবাহনের অনুমোদন নেই।’ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজ রাস্তা ও হাইওয়ে তৈরি করা, সংরক্ষণ করা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত রাখা। প্রয়োজনের ভিত্তিতে এসব কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করা যায় এবং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অনেকগুলো কর্তৃপক্ষ জড়িত বলে উল্লেখ করেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘ওই কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়ের কাজ করছি, তবে টোটাল হাইওয়ের সব ব্যবস্থাপনার অযোগ্যতার দায়ভার আমাকে দিতে হয়। কিন্তু এখানে আমার সম্পৃক্ততা কম এবং আমার কাজ করার সুযোগ নির্দিষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, হাইওয়ের সব ব্যবস্থাপনা বা অরাজকতার সমাধান শুধু তার কাছে নয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কাছেও রয়েছে।
এ সময় তিনি ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং পাশে বৃক্ষরোপণ করেন।
ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্লাবটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জ/রা