আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-09-03T16:38:23+06:00
2026-09-03T16:38:23+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম 
ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত নিজেদের ৮৬ টন স্বর্ণ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির নাম ‘ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক’ (ডিএনবি)। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, নিউইয়র্ক কিংবা অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে স্বর্ণ সংরক্ষণ করা হলে তা দ্রুত কেনাবেচা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।

এক বিবৃতিতে ডিএনবি জানিয়েছে, কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই স্থানান্তর তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লিজপেন বলেন, স্বর্ণের এই স্থানান্তরের মাধ্যমে রিজার্ভ ব্যবহারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হয়তো এই স্বর্ণ ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার জন্য আগাম এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

ডিএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। এর বাজারমূল্য প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো, যা ৮৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

স্বর্ণ স্থানান্তরের আগে নেদারল্যান্ডসের মোট রিজার্ভের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ অটোয়ায় সংরক্ষিত ছিল। নতুন বিন্যাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা-দুই দেশেই থাকা ডাচ স্বর্ণের অংশ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে লন্ডনে সংরক্ষিত স্বর্ণের অংশ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। আর মোট রিজার্ভের বাকি ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টে রাখা হয়েছে।

ডিএনবি জানায়, পুরো স্থানান্তর কার্যক্রম শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্বর্ণ পরিবহনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি। এর সঙ্গে স্বর্ণ কেনাবেচা ও ভৌত স্থানান্তরের সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যাংকটির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি ভৌত স্বর্ণ নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব কেন্দ্র জাইস্টে আনা হয়। পরে সমপরিমাণ স্বর্ণ জাইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্বর্ণের বার গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি। ডিএনবির বিশ্বাস, কেনাবেচা ও সরাসরি পরিবহনের সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে প্যারিসভিত্তিক গোল্ড ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টার’-এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে রাখা নিজেদের স্বর্ণ অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রবণতা অনুসরণ করছে। তাঁর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিকল্প ও নিরাপদ স্থানে স্বর্ণ সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে পারে।

লরেন্ট শোয়ার্টজের মতে, লন্ডনের স্বর্ণবাজার বৈশ্বিকভাবে অত্যন্ত গভীর ও তারল্যপূর্ণ। ফলে সংকটের সময়ে সেখানে থাকা স্বর্ণ দ্রুত ব্যবহার করার বাড়তি সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চাইলে অন্যান্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজে নিজেদের স্বর্ণ ঋণ হিসেবেও দিতে পারে।

অন্যদিকে সিটে জেসিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ডের মতে, নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংকট দেখা দিলে স্বর্ণ যেন দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় থাকে তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আপাতত ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন একটি পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও যদি একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে সংরক্ষিত জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্ডেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]