গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণে নিপা খন্দকার (১৯) নামে এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ওই প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত নিপা খন্দকার কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশিবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন খন্দকারের কন্যা এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের স্ত্রী। দুই বছরের বিবাহিত জীবনে এটিই ছিল তাদের প্রথম সন্তান।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতিকে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রাইভেট হাসপাতাল তথা ক্লিনিকে ভর্তি করার পর কথা ছিল সার্জন ডা. শ্যামল বাড়ৈ অস্ত্রোপচার করবেন। কিন্তু স্বজনদের না জানিয়ে বা কোনো সম্মতি না নিয়ে শেষ মুহূর্তে অস্ত্রোপচার করেন ডা. সোহাগ হাওলাদার।
দুপুর ২ টার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি সুস্থ কন্যাসন্তান জন্ম দেয় নিপা। তবে শিশুটিকে স্বজনদের কোল তুলে দেওয়ার পরপরই ওটি'র ভিতর শুরু হয় হুলস্থুল কান্ড। স্বজনরা অভিযোগ করেন, ওটি'র ভেতর ক্লিনিক কর্মচারীদের দ্রুত অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে টানাটানি করতে দেখা যায়।
এর কিছুক্ষণ পরেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগী স্ট্রোক করেছে। তাকে ঢাকা বা খুলনায় রেফার করা প্রয়োজন। স্বজনরা রোগীকে নিয়ে রওয়ানা হওয়ার পর স্বজনদের মনে সন্দেহ হলে তারা দ্রুত কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক নিপাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। নিপার পরিবারের দাবি, ক্লিনিকের ভেতরেই ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিজেদের অপকর্ম ও আইনি দায় এড়াতেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মৃত রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
নিপার মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সোহাগ হাওলাদার ক্লিনিক ছেড়ে সটকে পড়েন। স্বজনরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আলাপ করা হলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জ/বা