নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যান্য

2026-08-29T03:11:08+06:00
2026-08-29T03:11:08+06:00
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
অন্যান্য
প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা প্রাপ্তিতে ডব্লিউডিডিএফের সেমিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ এএম 
নারীদের জন্য সকল ধরনের সেবা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য, নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে “প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা প্রাপ্তি” শীর্ষক সেমিনার। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে বিদেশি দাতা সংস্থা FJS ও DRF-এর অর্থায়নে এবং Women with Disabilities Development Foundation (WDDF)-এর আয়োজনে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন WDDF-এর চেয়ারপারসন শিরীন আক্তার। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট কোঅর্ডিনেটর শারমিন আক্তার দোলন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে আশরাফুন নাহার মিষ্টি জানান, আমরা সব সময় দেখি ঐচ্ছিক বিষয়ের মতো প্রতিবন্ধীদের মূল্যায়ন করা হয়। আর তিনি যদি হন নারী তাহলে তো কথায় নেই। প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হওয়া পযন্ত তারা আগাতে পারবে না। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের জন্য রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে। ডব্লিউ ডিডিএফ এ ৩৩জন মানুষ আছে। যাদের ৩২ জন নারী (প্রতিবন্ধী) আর একজন পুরুষ। প্রতিবন্ধী মানুষ যদি শিক্ষিত হয় তারা কাজ করতে পারে। এরাই তার প্রমাণ। 

WDDF-এর চেয়ারপারসন শিরীন আক্তার সভাপতি বলেন, এই সরকার আসার আগে আমরা অনেকদিন আমরা হতাশায় ছিলাম যে, আমাদের দাবিগুলো কোথায় জানাবো। এই সরকারের আমলে একটি বাস্তবায়ন কমিটি হয়েছে। আমরা অনেকদিন ধরে এটিই চাচ্ছিলাম। যেখানে আমাদের দাবিগুলো জানাতে পারবো। আমরা আশাবাদী যে, এই বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের চাওয়া দাবিগুলোর সমাধান হবে।

এবিএফ এর চেয়ারম্যান মহুয়া পাল বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। প্রতি বছর বাজেটের ক্যাম্পেইন করি। বাজেট নিয়ে কাজ করি। আমাদের যে দাবিগুলো আছে তা ঠিকমত পূরণ হয়না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল ও যানবাহন মেট্রোরেল ছাড়া কোনো সুযোগ নেই। আমরা সহজভাবে নিরাপদে চলাচল করতে পারি।

অ্যাডভোকেট রেজাইল করিম সিদ্দিকী (সুপ্রিম কোট) বলেন, আমাদের দেশে ভিকটিমিকেই প্রমান করতে হয় ঘটনা কীভাবে ঘটিয়ে কোন অপরাধ করেছে। সম্প্রতি একটি রায়ে প্রমাণের অভাবে অনেক অপরাধী খালাস পেয়ে গেছে। এর আর এক কারণ মামলায় দীর্ সূত্রীতা। 

ভাষ্কর ভট্টচায্য জানান, সকল প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ইসেবা চালু করতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য পাসপোট করা কঠিন। এটার বিকল্প ব্যবস্থা বা সহজ করার কথা ভাবতে হবে। 

ইটসেভার্স বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বললেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও কিশোরীরা বেশী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এটি অনেকটা চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক নানা দিক থেকে তারা মোটামুটিভাবে বিচ্ছিন্ন। এগুলো নিয়ে যদি মনোযোগ দেওয়া যায় এবং অ্যাড্রেস করা যাবে। তিনি বলেন, সমতাভিত্তিক সমাজ। এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় না। এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্য অধিকার। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে প্রতিবন্ধীব্যক্তিদেরকে চ্যারিটি মর্যাদায় না রেখে অধিকারভিত্তিক মর্যাদায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছি।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবিনা নাসরিন বলেন, আমরা সবাই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজ করি। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীরা তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে সেলুট জানাই। নারীদের জন্য অনেক আইন থাকলেও বাস্তবায়ন হয়না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে- যথাযথ জবাবদিহিতার অভাব। যার যার দায়িত্ব ঠিকমত পালন করে না। যার ফলে প্রান্তিক মানুষ সেবা পায় না বললেই চলে। বিভিন্ন বাজেট হয়। টাকা আসে। এসব টাকা ঠিক জায়গায় খরচ হয় কিনা এগুলো মনিটর করা প্রয়োজন।

ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড এর স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হাবিব বলেন, সরকারি ভবন, পার্ক, খেলার মাঠ, রাস্তা ও অন্যান্য জোন পরিকল্পনার নকশায় সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য করা যায় কিনা সেভাবে নকশা করতে হবে। দেশে অসংখ্য ভবন, অসংখ্য নগরায়ন হয়েছে। এসব ভবনে সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থা আছে কিনা তা অডিট করে দেখতে হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্বজনীন ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।

WDDF-এর প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট কোঅর্ডিনেটর শারমিন আক্তার দোলন বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা আইন আছে; তা শুধু কাগজে কলমে না রেখে বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা বা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এগুলো তাদের এটি অধিকার। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে প্রতিবন্ধী মানুষ কোনো করুণা বা বোঝা হিসেবে নয় বরং তারা অধিকার সম্পন্ন একজন নাগরিক এবং সমাজে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। আইন, নীতি, বাজেটের পাশাপাশি তাদের যে নিজেদের কণ্ঠ আছে সেটিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় আনতে হবে।

ই্‌উএন উইম্যান এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট সাপোর্ট অফিসার নাজমা আরা বেগম পপি বলেন, বাংলাদেশে নারীদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে আইনের অভাব নাই। তারপরও প্রতিবন্ধী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আমরা তাদেরকে সুরক্ষা দিতে পারিনা । আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের অনেক মামলায় গিয়েছি। আমি দেখেছি আমাদের প্রতিবন্ধী অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩ এ অনেক কিছু স্পষ্ট নাই।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী নারী আনিলা বলেন, বার এক্সাম পরীক্ষায় টাইমিংয়ে অতিরিক্তি ২০ মিনিট সময় থেকে আরো টাইম বাড়িয়ে দিতে হবে। তিনি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে অধিকার আইন আছে তার ওপর একটি কমপ্লেটিভ স্টাডি করছেন। সেখানে নেপাল আমাদের পরে যে প্রতিবন্ধী নারীদের যে আইন করেছে সেটি সেখানে স্পষ্ট করে আছে। আর বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারীর আইনে স্পষ্ট নেই । এটি রিভিউ করা দরকার বলে আনিলা জানান।

প্রতিবন্ধী নারী অনামিকা বলেন, করোনার পর থেকে প্রতিবন্ধী নারীরা গ্রামে কি যে কস্টে আছেন- আপনারা না গেলে বুঝবেন না। আমি দিনাজপুরের উত্তরাঞ্চলের গ্রামে কাজ করি। এখন প্রতিবন্ধী নারীদের শিক্ষার সুযোগ থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই কম। তারা অনাহারে জীবনযাবন করছেন। এসব প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য সরকারের দৃষ্টি রা্খার দাবি জানান।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া পাল, চেয়ারপারসন, এবিএফ; ব্যারিস্টার আয়েশা আক্তার, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; রেজাউল করিম সিদ্দিকী, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; ভাস্কর ভট্টাচার্যী, কনসালটেন্ট ও ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটি এক্সপার্ট, বাংলাদেশ; আনিকা রহমান লিপি, সহকারী পরিচালক, সেন্টার ফর ডিজেবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (CDD); এবং নাজমা আরা বেগম পপি, ন্যাশনাল প্রজেক্ট সাপোর্ট অফিসার (UN Women Bangladesh)।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুব, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), সমাজসেবা অধিদপ্তর; মোঃ আশরাফুল ইসলাম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা; মোহাম্মদ মসিউর রহমান, নির্বাহী পরিচালক (সচিব), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; ইকবাল হাবিব, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড; শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF); এবং অমৃতা রেজিনা রোজারিও, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাইটসেভার্স বাংলাদেশ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানালেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাইট নিয়ে যখন কোনো কমিটি হবে, আলোচনা হবে সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অবশ্যই থাকবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ মাসে ৮টি অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে, আমরা বসবো। সারা দেশে সাড়ে ৩৪ লাখ প্রতিবন্ধীকে প্রতি মাসে নয় শত টাকা করে ভাতা  দেওয়া হতো। এ বছর বাড়িয়ে তা ৩৮ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার।

সেমিনারে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য বিদ্যমান সেবা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, পেশাজীবী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। WDDF-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনার প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

জ/বা




আরও পড়ুন
  বিষয়:   অন্যান্য  ডব্লিউডিডিএফ  সেমিনার 



Advertisement
Loading...
Loading...
অন্যান্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]