সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রিল দেখতে গিয়ে একের পর এক ভিডিওতে চলে যাওয়া কিংবা ‘আর মাত্র পাঁচ মিনিট’ করতে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেওয়া-তরুণদের মধ্যে এমন অভিজ্ঞতা এখন বেশ পরিচিত। তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এবার বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে মামলা মেটাতে রাজি হয়েছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।
গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্যের করা মামলাটি নিষ্পত্তি করতে মেটাকে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হতে পারে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু ফিচার রাখা হয়েছে, যেগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়।
তবে প্রস্তাবিত সমঝোতায় কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি মেটা। চুক্তিটি কার্যকর করতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে মেটা যেসব পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য দৈনিক ডিফল্ট ব্যবহারের সময় দুই ঘণ্টায় সীমিত রাখা।
রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অ্যাপ ব্যবহারে বিরতি দেওয়া।
প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকদের ব্যবহারের সময়সীমা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা।
রাত ও স্কুল চলাকালে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা।
পোস্টে লাইক ও প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা না দেখানোর সুবিধা চালু করা।
নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মেকআপ ফিল্টার নিষিদ্ধ করা।
ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
প্রায় দুই বছর তদন্তের পর ২০২৩ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। চলতি মাসে মামলার বিচার শুরু হওয়ার পরপরই দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়।
জ/উ