ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি নিয়ন্ত্রণহীন রকেটের পরিত্যক্ত অংশ বুধবার (৫ আগস্ট) চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে। নাসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার টন ওজন এবং পাঁচতলা ভবনের সমান দৈর্ঘ্যের ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের অংশটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৪৩ কিলোমিটার গতিতে চাঁদে আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক একটি চন্দ্রাভিযানে ব্যবহারের পর গত ১৮ মাস ধরে এটি পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে কক্ষপথ পরিবর্তন করে চাঁদের দিকে এগোচ্ছিল।
নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পৃথিবী বা মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ম্যাট বোথওয়েল বলেন, ঘটনাটি চাঁদ নিয়ে গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সংঘর্ষটি খালি চোখে দেখা না গেলেও শক্তিশালী টেলিস্কোপে ধূলিঝড় ও আলোর ঝলকানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আঘাতের ফলে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটার-এর কাছে একটি নতুন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি মহাকাশযান আঘাতের আগে ও পরের ছবি বিশ্লেষণ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রকেটটির ভর ও গতি আগে থেকেই জানা থাকায় চাঁদের মাটি ও ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা মহাকাশ বর্জ্য বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, বর্তমানে চাঁদে মানুষের তৈরি প্রায় ৩ হাজার বস্তু রয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ১৯০ টন। ভবিষ্যতে চন্দ্রাভিযান ও কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা বাড়লে মহাকাশ বর্জ্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
জ/উ