বিএনপি সরকারের ছয় মাসে ৫১২ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে দেওয়া বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বলে ভুল স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৫১২ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন।’ তার ওই ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর এক দিন পর মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বক্তব্যটি সংশোধন করেন জামায়াতের এই নেতা।
স্ট্যাটাসে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ লেখেন, ‘গতকালের সংবাদ সম্মেলনে গুমসংক্রান্ত আমার বক্তব্যের স্পষ্টীকরণ। বর্তমান সরকারের গত ৬ মাসের হামলা-মামলা, জুলুম-নির্যাতন ও গুম-খুনের পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় ‘অপহরণ (Kidnap)’ বলতে গিয়ে স্লিপ অব টাংয়ের কারণে ‘গুম’ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমি ৫১২টি অপহরণের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, যার সূত্র দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ আগস্ট ২০২৬। অপহরণের ৫১২টি ঘটনা সঠিক, যা পুলিশ সদর দপ্তরের রিপোর্টেও প্রকাশিত হয়েছে।’ অর্থাৎ, ৫১২ জন গুমের শিকার হয়েছেন- আগের দিনের এমন বক্তব্য থেকে সরে এসে তিনি ওই সংখ্যা অপহরণের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে হামলা, মামলা, জুলুম-নির্যাতন, গুম ও খুনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন হামিদুর রহমান আযাদ। সেই সময়ই ৫১২ জন গুমের শিকার হওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে নিজের বক্তব্যকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করে তা সংশোধন করেন।