বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের ১৮০ দিনের সাফল্যের প্রচার আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। এই সময়ে দেশে জনআস্থা তলানিতে নেমে গেছে। অপরিকল্পিত ও অব্যবস্থাপনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আজ রবিবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১-দলীয় জোটের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রত্যাশা করেছে। আমরা সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু সেখানে অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ও অব্যবস্থাপনা ছাড়া জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যর্থ হয়েছে, জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারখানা বন্ধ হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। চাঁদাবাজির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অথচ সরকার এসব বিষয় এড়িয়ে ১৮০ দিনের সাফল্যের প্রচার করছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আগে যে কাজ করত, এখন বিএনপিও একই কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত তাদের ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু তা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কারের শপথ না নিয়ে তারা যে প্রতারণা শুরু করেছে, সেটার মধ্যেই আছে।
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে তাদের কোনো পরিকল্পনাই নেই। সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং তারা বিরোধী দলের কাছে পরিকল্পনা চাইছে। আমরা সেই পরিকল্পনা দিয়েছি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি ইস্যুতে দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে জাতীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আওয়ামী লীগের সময় যে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছিল, ভারত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। এ জন্য নতুন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে আওয়ামী লীগ থাকবে না।
তিনি বলেন, হাসিনা ও হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারত ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর করা উচিত হবে না।
১১ দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করছি। গণতান্ত্রিকভাবে রাজপথে জবাব দেব। লং মার্চে কোনো বাধা এলে তা গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিহত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে যে নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা প্রহসনের মতো। বিষয়টি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।