ম্যাকাইয়ে দুই দিনের মধ্যে ইনিংস ব্যবধানে হারের হতাশা আছে। তবে সেটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় ও সিরিজ ড্রয়ের অর্জনকে মুছে দিতে পারছে না। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের মতে, ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে অস্ট্রেলিয়া থেকে কাঙ্ক্ষিত সম্মান নিয়েই ফিরছে বাংলাদেশ।
দেশে ফেরার আগে সোমবার ম্যাকাই বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাশার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ড্রকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। বাশার বলেন, ‘এটি অবশ্যই বিশাল অর্জন। শুধু আমরা নই, বিশ্বজুড়ে যারা বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসরণ করেন, সবাই এই অর্জনকে অনেক উঁচুতে রাখছেন।’
তবে একটি সিরিজের ফল দেখেই বাংলাদেশকে পরিণত টেস্ট দল বলতে রাজি নন প্রধান নির্বাচক। উন্নতির আরও অনেক জায়গা দেখছেন তিনি। এরপরও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছে বলে মনে করেন বাশার।
তিনি বলেন, ‘এখনই বলতে পারব না যে আমরা খুব ভালো টেস্ট দল হয়ে গেছি। আমাদের এখনো অনেক পথ যেতে হবে। তবে আমরা নিজেদের একটি বার্তা দিতে পেরেছি।’ ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটির প্রায় প্রতিটি পর্বেই আধিপত্য ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।
এরপর ম্যাকাইয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা হয় বাংলাদেশের। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে হারে সফরকারীরা। শরিফুল ইসলামের ৭ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়েও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
বাশার স্বীকার করেছেন, ডারউইনের জয়ের পর সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়া যে সর্বশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটিও তাঁদের জানা ছিল।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘প্রত্যাশা অবশ্যই বেড়ে গিয়েছিল। সিরিজ জয়ের সুযোগও তৈরি করেছিলাম। তবে আমরা জানতাম, অস্ট্রেলিয়া এক নম্বর টেস্ট দল এবং এই ম্যাচে নিজেদের সবকিছু নিয়েই নামবে। তাদের জন্য ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারাটা অনেক বড় ধাক্কা হতো।’ ম্যাকাইয়ের ফল নির্ধারণে টস সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলে মনে করেন বাশার। টস জিতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় এবং পেসারদের সহায়তা কাজে লাগিয়ে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেয়।
বাশার বলেন, ‘টসের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু সাধারণত একটি টস এত বড় পার্থক্য তৈরি করে না। এখানে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরও রান করতে কষ্ট হয়েছে। আমরা আগে বোলিং করলে হয়তো গল্পটা অন্য রকম হতে পারত।’
তার মতে, গতিময় ও বাউন্সনির্ভর উইকেট তৈরি করে হিসাব করেই ঝুঁকি নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশে যেমন স্পিন সহায়ক উইকেট প্রস্তুত করা হয়, স্বাগতিকেরাও নিজেদের শক্তির কথা ভেবে পেসারদের উপযোগী মাঠ তৈরি করেছিল।
বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া একধরনের ঝুঁকি নিয়েছিল। এই উইকেটে ম্যাচ যেকোনো দিকেই যেতে পারত। আমরা যেমন কখনো স্পিন সহায়ক উইকেট বানাই, তারা তেমনি গতিময় উইকেট তৈরি করেছে। টসের ভাগ্য তাদের পক্ষে গেছে, তবে আমাদেরও আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল।’ সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়া সফরের অর্জনকেই সামনে রাখছেন প্রধান নির্বাচক। সফরের আগে যে সম্মান অর্জনের লক্ষ্য ছিল, সেটি পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে বলেছিলাম, ফেরার সময় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সম্মান নিয়ে ফিরতে চাই। আমার মনে হয়, সেই সম্মান নিয়েই দেশে ফিরতে পারছি।’ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানসহ বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বাশার। তার মতে, ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে গত দুই বছরের পারফরম্যান্স তুলনা করলে উন্নতিটা পরিষ্কার বোঝা যায়।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে চতুর্থ স্থানে আছে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্র পাওয়া শান্তদের সামনে আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট রয়েছে।
বাশার বলেন, ‘আমরা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন ভালো অবস্থানে আছি। সামনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট রয়েছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত আমরা কোথায় যেতে পারি।