ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পণ্য প্রবেশ কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতার সুযোগে চোরাচালান বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও খাবার থেকে শুরু করে আইফোন, সৌর প্যানেল এবং সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধ পথে গাজায় প্রবেশ করছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারীদের কোটি কোটি ডলারের লাভ হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য গুনতে হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানে আদালতের নথি এবং গাজার ব্যবসায়ী, দোকানি, ট্রাকচালক, সরকারি কর্মকর্তা ও বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে চোরাচালান বাণিজ্যের এই চিত্র উঠে এসেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সিগারেট ও তামাক প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চোরাই পথে এসব পণ্য ঢুকছে। একই সঙ্গে আইফোন, সৌর প্যানেল, জ্বালানি, চেতনানাশক ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও গাজায় পৌঁছাচ্ছে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের পরিমাণ সীমিত করেছে এবং কিছু পণ্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। এসবের অনেকগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যেগুলো বেসামরিক কাজের পাশাপাশি সামরিক কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে ইসরায়েলের দাবি।
যুদ্ধের মধ্যে চোরাচালানই হয়ে উঠেছে বড় ব্যবসাএপি বলছে, গাজায় চোরাচালান নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায় দুই দশকের ইসরায়েলি অবরোধকে পাশ কাটিয়ে আগে থেকেই সেখানে একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর পণ্য প্রবেশে বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ায় সেই নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
চোরাচালানকারীদের এই বাণিজ্যে দুই পাশের বিভিন্ন পক্ষ জড়িত বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। পণ্য পরিবহনের জন্য ইসরায়েলি সেনা, চালক, গুদামকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ পণ্যের শেষ দামের সঙ্গে যোগ হয়ে যায়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা চোরাচালানের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং তা বন্ধে কাজ করছে। কোনো সেনা সদস্য এতে জড়িত থাকার সন্দেহ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তা তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে তারা। তবে সেনাদের ভূমিকা এবং গাজার প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এপির বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর দেয়নি সামরিক কর্তৃপক্ষ।
গাজায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সরকারি সংস্থা ও হাসপাতালগুলোকেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে চোরাচালানকারীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার সরকারি সংস্থাগুলো কখনো কখনো জ্বালানি, বেসামরিক প্রতিরক্ষা যানবাহনের যন্ত্রাংশ কিংবা জেনারেটরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা জানায়। হাসপাতালগুলোও ওষুধ ও কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য চোরাচালানকারীদের দ্বারস্থ হয়।
এমনকি বিভিন্ন গোত্রের নেতারাও নিজেদের এলাকার মানুষের জন্য চোরাই পথে ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের অনুরোধ করেন বলে এক গোত্রীয় নেতা জানিয়েছেন। গাজায় চোরাই পণ্য পাঠানোর জন্য একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে এপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুই বড় ব্যবসায়ী এবং তৃতীয় এক ব্যবসায়ীর সহযোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গাজায় কোন কোন পণ্য প্রয়োজন তার তালিকা ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে থাকা ‘সমন্বয়কারীদের’ কাছে পাঠান। এসব সমন্বয়কারী পণ্য সংগ্রহ ও গাজায় পাঠানোর পথ ঠিক করেন।
বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তার বড় অংশ দক্ষিণ গাজার কারেম শালোম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। সেখানে প্রতিটি ট্রাক তল্লাশি করা হয়। তবে চোরাচালানকারীরা এই পথও ব্যবহার করে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকগুলো নির্বিঘ্নে পার করতে ইসরায়েলি সেনাদের ঘুষ দেওয়া হয়। কখনো সামরিক যান ব্যবহার করেও পণ্য গাজায় নেওয়া হয়।
মানবিক সহায়তা বহনকারী ট্রাকও কখনো কখনো চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক কম বলে তারা দাবি করেছেন। যুদ্ধের আগে যে ব্যাটারি ১৪০ ডলার, এখন ২৩০০। রাচালানের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষকে। পণ্য পরিবহনের প্রতিটি ধাপে অর্থ দিতে হওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
গাজার বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যে গাড়ির ব্যাটারির দাম ছিল প্রায় ১৪০ ডলার, এখন সেটির দাম ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। সৌর প্যানেলের দামও প্রতি ওয়াট ১৬ সেন্ট থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বাজারে পণ্যের সংকট তীব্র হওয়ার পর চোরাচালান দ্রুত বাড়তে শুরু করে বলে গাজার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন। তখন মুরগি, মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য গোপনে গাজায় আনা হতো। এমনকি শিশুখাদ্য ও পোষা প্রাণীর খাবারও চোরাই পথে ঢুকেছে।
গাজায় চোরাচালান হওয়া পণ্যের মধ্যে সিগারেট ও তামাক সবচেয়ে বেশি লাভজনক বলে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সম্প্রতি গাজায় এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। ইসরায়েলের পূর্ণ অবরোধের সময় সেই দাম ১ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুই-তিনজন মিলে একটি সিগারেট ভাগ করে খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন।
চোরাচালানকারীদের জন্য সিগারেট সহজে লুকিয়ে পরিবহন করা যায় এবং এতে বিপুল লাভ হয়। আদালতের নথি, ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার প্যাকেট সিগারেট কখনো ইসরায়েলি সামরিক যান, কখনো বাণিজ্যিক ট্রাক, আবার কখনো ত্রাণবাহী গাড়িতে লুকিয়ে গাজায় নেওয়া হয়েছে। এমনকি আনারসের ভেতর কেটে জায়গা তৈরি করেও সিগারেট পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
গাজার হামাস-নেতৃত্বাধীন সরকারও চোরাচালান হওয়া পণ্য থেকে অর্থ পাচ্ছে বলে ব্যবসায়ী ও এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার সরাসরি বাণিজ্যিক চোরাচালানে অংশ না নিলেও পণ্যের দামের একটি অংশ আদায় করে। দুই বড় ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর এ ধরনের অর্থ আদায়ের চাপ বেড়েছে। চোরাই পথে পণ্য আনার কারণে তাদের হামাস কর্তৃপক্ষের কাছে ডাকা হয়েছিল। একজন ব্যবসায়ী ৩৫ লাখ ডলার এবং অন্যজন প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
হামাস প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এই অর্থ গাজার সরকারি কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যদের বেতন এবং সামাজিক সেবা চালু রাখতে ব্যয় করা হয়। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে চোরাই পণ্যের ওপর আরোপিত অর্থ থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে গাজার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বারবাখ জানিয়েছেন, চোরাচালানের পুরো পরিমাণ সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই, কারণ এসব কার্যক্রম গোপনে পরিচালিত হয়। সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের কর্মকর্তা ইসমাইল আল-থাওয়াবতা অবশ্য দাবি করেছেন, সংগৃহীত অর্থ হামাসের সামরিক শাখায় যায় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ জনগণের সেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সচল রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়।
চোরাচালান নেটওয়ার্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে উঠে এসেছে ‘আবু বাসেল’ নামে পরিচিত এক রহস্যময় ব্যক্তির নাম। রায়েলি আদালতের নথিতে দেশটির কৌঁসুলিরা তাকে এমন একজন চোরাচালান সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার অসংখ্য ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এক ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশ পশ্চিম তীরের একটি ইহুদি বসতিতে অভিযান চালিয়ে গাজার জন্য সিগারেট ও মোবাইল ফোন মজুত করা একটি গুদাম খুঁজে পায়। থি অনুযায়ী, এক চোরাচালানকারী আবু বাসেলকে ফোন করে সেই ফোন একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাতে দেন। কথা বলার পর পুলিশ অভিযান বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যায়। কাউকে গ্রেপ্তার বা পণ্য জব্দও করা হয়নি।
এপির সঙ্গে কথা বলা সবাই আবু বাসেলকে চোরাচালান জগতের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার আসল নাম, তিনি ইসরায়েলি নাকি ফিলিস্তিনি এবং কীভাবে এত বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন-এসব বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন। গাজার একজন জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য কর্মকর্তা তাকে ‘মাস্টার’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তার অনুমতি ছাড়া গাজায় কোনো পণ্য ঢোকে না।
ইসরায়েলি আদালতের নথিতেও আবু বাসেলের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে ওই সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এক ডজনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাজায় দায়িত্ব পালন করা ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারাও রয়েছেন। তবে ব্যবসায়ী, দোকানি ও ট্রাকচালকদের দাবি, এই মামলাগুলো চোরাচালান নেটওয়ার্কে জড়িত মোট মানুষের খুব ছোট একটি অংশকে তুলে ধরে।
একটি বড় মামলায় ইসরায়েলের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে গাজায় চোরাচালান চক্র পরিচালনা এবং রিজার্ভ সেনাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই চক্রের প্রধানদের একজন গাজায় থাকা এক সেনা কর্মকর্তাকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার দিয়ে তিন দফায় প্রায় ৬ হাজার প্যাকেট সিগারেট পাচার করান। আরেক ঘটনায় ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই রিজার্ভ সেনা এক দিনেই চার দফা গাজায় ঢুকে প্রায় ২০ হাজার প্যাকেট সিগারেট, শত শত আইফোন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে গেছেন বলে মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সময়ে বৈধ পথে পণ্য আনার অনুমতিও অত্যন্ত সীমিত। গাজার অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১২ জন ব্যবসায়ীকে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। এসব চালানে কী পণ্য থাকবে, তা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন করতে হয়। প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের কথা বলে অনুমতি বাতিল করা হয়।
ইসরায়েল প্রায় ১৫০টি বিস্তৃত পণ্যশ্রেণিকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে। এর মধ্যে কংক্রিট, অ্যাসফল্ট, স্টিলের পাইপ ও কাঠের তক্তার মতো নির্মাণসামগ্রী রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে জেনারেটর ও এক্স-রে মেশিনের মতো পণ্য কঠোর নজরদারির আওতায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সামরিক বিভাগের সমন্বয়কারী সংস্থা জানিয়েছে।
গাজার বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে গরমের সময়ে। প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য সীমিত থাকায় দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে।
এক বাসিন্দা জানান, আগে যে ফ্যানের দাম ছিল ১০০ ডলার, এখন সেটি ৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা তাদের জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। আরেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, ফ্যান গাজায় ঢুকতে না দেওয়ার কারণ কী। প্রচণ্ড গরমে তাঁবুতে থাকা মানুষ শিশুদের শরীরে পানি ছিটিয়ে কিংবা কার্ডবোর্ড জ্বালিয়ে কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
সব মিলিয়ে, গাজায় পণ্য প্রবেশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ একদিকে বৈধ বাণিজ্যকে সীমিত করেছে, অন্যদিকে চোরাচালানকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে সীমান্তের বিভিন্ন পক্ষ, ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। আর সেই চোরাচালানের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে এমন এক জনগোষ্ঠীর ওপর, যারা দীর্ঘ যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও পণ্যের সংকটের মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।