মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ লুটিয়ে পড়া তিন দিনের ব্যবধানে দুবার এমন ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছিল ফুটবল বিশ্বে। অবশেষে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির তারকা জামাল মুসিয়ালা।
২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, তিনি হালকা ও সাময়িক এক ধরনের স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন। পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ ধরা পড়েছে, যার কারণে সাময়িকভাবে চেতনা হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এটি চিকিৎসাযোগ্য বলেও ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দ্বিতীয় বিভাগের দল হেইডেনহাইমের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। কিন্তু মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ লুটিয়ে পড়েন তিনি। সে সময় তাকে বেশ বিভ্রান্তও দেখাচ্ছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন বায়ার্ন তারকা।
এর মাত্র তিন দিন আগে, গত শনিবার লাইপজিগের বিপক্ষেও একইভাবে মাঠে ঢলে পড়েছিলেন মুসিয়ালা। টানা দুই ম্যাচে এমন ঘটনায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানান মুসিয়ালা। তিনি বলেন, পরীক্ষার পর তার শরীরে হালকা ও ক্ষণস্থায়ী ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ ধরা পড়েছে। স্নায়বিক এই সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে চেতনা হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মুসিয়ালা লিখেছেন, পরীক্ষার পর আমার শরীরে হালকা ও ক্ষণস্থায়ী এক ধরনের “অ্যাবসেন্স সিজার” বা সাময়িক চেতনা হারানোর সমস্যা ধরা পড়েছে। এটি মূলত স্নায়বিক জটিলতার কারণে হয়। তবে সহজেই এটি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
ভক্তদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, লাইপজিগ ও হেইডেনহাইমের বিপক্ষে যা ঘটেছে, তা এই সমস্যার কারণেই। বাইরে থেকে দেখতে বিষয়টি যতই ভীতিকর মনে হোক না কেন, আমার কাছে এটি এখন খুব সাধারণ একটি ঘটনা।
মুসিয়ালা জানিয়েছেন, সেরা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। দ্রুতই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই জার্মান তারকা।
এর আগে হেইডেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বায়ার্ন মিউনিখের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মাক্স এবার্ল জানিয়েছিলেন, মুসিয়ালার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে। খুব শিগগিরই মুসিয়ালা নিজেই এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
মুসিয়ালার ক্যারিয়ারে ইনজুরিও অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে বড় বাধা হয়ে এসেছে। গোড়ালির হাড় ভেঙে যাওয়ায় গত মৌসুমের প্রথম ছয় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। তবে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন এই তরুণ তারকা।
এরপর জার্মানির হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও মাঠে নামেন মুসিয়ালা। এবার নতুন এই স্নায়বিক সমস্যার ধাক্কা সামলে দ্রুত মাঠে ফেরার অপেক্ষায় আছেন বায়ার্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই খেলোয়াড়। সূত্র: ইএসপিএন
জ/শা