খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফলে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়সহ দ্রুত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। সচেতন নাগরিক মহলের আশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা যুক্ত হওয়ায় বিশেষায়িত হাসপাতালটির দীর্ঘ দিনের জনবল ও বিশেষজ্ঞ সংকট দূর হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার মান বহুগুণ বাড়বে।
জানা গেছে, ১২ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে এ তথ্য জানান। গত শুক্রবার চিঠিটি উপাচার্যের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে বলা হয়, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হলো।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষায়িত হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। ফলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করায় সেবার মানও বাড়বে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ বাড়তি ব্যয় সাশ্রয় হবে। খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। এর সুফল ভোগ করবে এ বিভাগের দুই কোটি মানুষ।
খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক শেখ আবু শাহীন বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতালকে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি একটি বড় খবর। এতে হাসপাতালটির রোগী সেবার পরিধি আরো গতিশীল হবে। আশা করছি, দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা কাজ শুরু হবে। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে আইন পাসের মধ্য দিয়ে খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খুলনা নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের ছয়টি ফ্লোর ভাড়া করে অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানে উপাচার্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪২। প্রতিষ্ঠার ছয় বছরেও শুরু হয়নি এর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম। ভাড়া করা বাড়িতে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করায় শুধু ভাড়া বাবদ বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে জনবল সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে খুলনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। তাদের অভিযোগ, শয্যা সংকট, ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, হাসপাতালটির জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করা। খুলনা নগরের গোয়ালখালী এলাকায় তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ হাসপাতাল। শুরুতে এর নাম ছিল শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ হাসপাতালটিতে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। ৮৫ জন চিকিৎসক, ২০০ নার্স ও ১০৩ জন সহায়ক কর্মচারী দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি দিন বহির্বিভাগে ৫০০-৬০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ভাসকুলার সার্জারি, বার্ন ইউনিট ও নিউরো মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সহায়ক কর্মচারীরও ঘাটতি রয়েছে।