আশ্রয়হীন জীবন: তবুও থামছে না পড়ালেখার অদম্য স্বপ্ন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

জন্মের পরই বাবার ছায়া হারিয়েছে ১৪ বছরের রাহুল। কিছুদিন যেতে না যেতেই মা-ও অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত সেই অবুঝ শিশু রাহুলের ঠাঁই হয় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ী সবুজ পাড়ার দরিদ্র ইসাহাক আলী মন্ডল ও শিল্পী খাতুনের ঘরে। সম্পর্কে নানা-নানী।

2026-08-16T17:38:02+06:00
2026-08-16T17:38:02+06:00
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
আশ্রয়হীন জীবন: তবুও থামছে না পড়ালেখার অদম্য স্বপ্ন
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
⏲ ৫:৩৮ পিএম | ১৬ আগস্ট, ২০২৬ | রোববার
আশ্রয়হীন জীবন: তবুও থামছে না পড়ালেখার অদম্য স্বপ্ন
জন্মের পরই বাবার ছায়া হারিয়েছে ১৪ বছরের রাহুল। কিছুদিন যেতে না যেতেই মা-ও অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত সেই অবুঝ শিশু রাহুলের ঠাঁই হয় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ী সবুজ পাড়ার দরিদ্র ইসাহাক আলী মন্ডল ও  শিল্পী খাতুনের ঘরে। সম্পর্কে নানা-নানী।

স্বজনদের অবহেলা আর চরম অভাব-অনটনের মাঝে বড় হওয়া সেই রাহুল হোসাইন এখন চরকুশাবাড়ী সবুজ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের বাস্তব রূপ চিনতে শিখলেও, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় দিনে দিনে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্ন।

নানা-নানী দু'জনের বয়স হয়েছে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। দিনমজুরী খেটে কোনো মতে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগার  করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। তারপরও রাহুলকে লালন-পালন। তার ওপর জীর্ণ-শীর্ণ একটি মাত্র ঘরই তাদের সম্বল। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। ভিজে যায়  কাঁথা-বালিশ আর রাহুলের পরম যত্নের বই-পুস্তক। তখন পলিথিনই হয় তাদের একমাত্র ভরসা।

পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও রাহুলের সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে রাহুল।

রাহুলের নানী শিল্পী খাতুন অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, নিজের পেটে ভাত নাই, তাও নাতিডারে বুকে ধরে মানুষ করছি। ও এখন বড় হইছে, পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু বই-খাতা কেনার ট্যাকা নাই, স্কুলের বেতন- পরীক্ষার ফি দিতে পারি না। জামা কাপড় তো নেই- ই। খাইব কী আর পড়বে কী? আমরা মরে গেলে রাহুল কোথায় যাবে?

নানা ইসাহাক আলী আক্ষেপ করে বলেন, দিন খেটে যা পাই, তা দিয়ে দিন চলে না। ঘরটার চাল ভাঙা। বৃষ্টি নামলে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকা লাগে। নাতির বইখাতা ভিজে যায়। থাকার একটা ভালো ব্যবস্থা যদি কেউ করে দিত আমার নাতীরে, তবে ছেলেটা দিন শেষে নিরাপদে ঘুমাতে পারত।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রাহুল অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র একটি ছেলে। এতো কষ্টের মধ্যেও সে পড়াশোনা ছাড়েনি। তার বাবা-মা কেউ খোঁজ নেয় না। বয়স্ক নানা-নানীর পক্ষে আর তার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সহায়তা বা সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে ছেলেটার জীবনটা বেঁচে যেত। অদম্য রাহুলের এই পথচলা যেন মাঝপথে থেমে না যায়- এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

জ/বা


  বিষয়:   দেশজুড়ে  সিরাজগঞ্জ 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত