জবাবদিহি ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-08-16T11:44:55+06:00
2026-08-16T11:44:55+06:00
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
আইন-আদালত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতে
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম 
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না; শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ইতোমধ্যে ভারতের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন।

এদিকে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে ফেরার কথা বলেন।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন। এই রায়ের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ দাবি করে আসছে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি আদালতে তোলা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার কথা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে মনে হলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]