এলএনজি সংকটে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। গত তিন দিন ধরে জেলার সবকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার পর থেকে স্টেশনগুলোতে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারাও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
জানা গেছে, জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। তবে জেলার চাহিদা এর প্রায় দ্বিগুণ। সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম।
সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও তখন মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ বুধবার সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়ায় একপর্যায়ে জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাস না পেয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি স্টেশনে আটকে পড়ে। বাধ্য হয়ে কিছু অটোরিকশা চালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যেতে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সিএনজি পাওয়া মেহেদী জানান, নিয়মিত ৪০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে চালক প্রথমে ৮০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যেতে রাজি হন চালক।
সিএনজি চালক জানান, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে নিয়মিত ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার থেকে ৭০ টাকা এবং এলপিজিতে গাড়ি চালানোর কারণে বৃহস্পতিবার থেকে ৯০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে।
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহনে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার সরবরাহ স্বাভাবিক করার কথা জানিয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ সংকট কাটবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।
জ/শা