নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ১ নম্বর নাজিরপুর ইউনিয়নের ৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ কলার হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর। সপ্তাহের চার দিন-রবিবার, সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে বসে এ হাট। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের কলা বাগানিরা কলা নিয়ে এখানে আসেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কলা কিনে নিয়ে যান।
হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কলার বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের জন্য বড় বড় ট্রাকে করে কলা পরিবহন করা হচ্ছে। নাটোরের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এ হাটে কলা কিনতে আসেন।
হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার পরিবেশ ভালো এবং ইজারাদারের আচরণও সন্তোষজনক। তুলনামূলক সুলভ মূল্যে কলা কিনতে পারায় তারা লাভবান হচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় সহজেই কলা পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তাদের দাবি, হাটের ইজারার হারও তুলনামূলক কম। প্রতি কাদি কলার জন্য মাত্র ৫ টাকা হারে ইজারা দিতে হয়। কলা বাগানিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ হাটে কলা বিক্রি করে আসছেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী এখানে আসায় প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দাম নির্ধারণ হয়। ফলে তারা ভালো দামে কলা বিক্রি করতে পারেন।
হাটের ইজারাদার মো. রনি হোসেন বলেন, এটি গুরুদাসপুর উপজেলার ৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ কলার হাট। উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাগানিরা এখানে কলা নিয়ে আসেন এবং ভালো দাম পান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে কলা কিনে নিয়ে যান। প্রতিহাটেই বড় বড় ট্রাকে করে কলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। তবে ঐতিহ্যবাহী এ হাটের স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় নানা সমস্যার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ইজারাদার, বিক্রেতা ও বাইরের ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, হাটের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে হাট পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে হাটের ভেতরে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। এতে কলাবোঝাই গাড়ি হাটে প্রবেশ ও বের হতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তার ওপর হাট বসানোর কারণে অনেক সময় যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ কলার হাটকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থায়ী জায়গা না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী হাটের জায়গায় ইট-বালু দিয়ে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাগানি ও ব্যবসায়ীরা নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কলার হাটের জন্য স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা ও বর্তমান হাটের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।