সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর থেকে তেলিবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে নয়জনের। এ ঘটনায় সড়কটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শুক্রবারের দুর্ঘটনায় নিহত সবাই ইউনিক বাসের যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সিলেট ঘুরতে এসেছিলেন সাইফুল ইসলাম। তবে আনন্দের সেই যাত্রা আর শেষ হয়নি বাড়ি ফেরার মধ্য দিয়ে। তার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাই।
সিলেট জেলায় সড়ক দুর্ঘটনার সামগ্রিক চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ছয় মাসে জেলায় ১৮৫টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থেকে তেলিবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায়ই এ অংশে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত মে মাসেও একটি ট্রাকের ধাক্কায় পিকআপে থাকা সাত শ্রমিক নিহত হন।
চালকদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরাও চালকদের দক্ষতা ও বেপরোয়া গতিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট জেলা কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল রহমান চৌধুরী বলেন, অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতিসহ একাধিক কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার কারণে এই এলাকায় পৌঁছানোর পর চালকদের মধ্যে ক্লান্তি দেখা দেয়। এর ফলে এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।
জ/উ