রাজধানীর বনানীতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন মো. আরিফ (১৯), মো. শাকিল আহমেদ (১৯) ও আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আমিরুল (১৬), ফয়সাল (১৪), রাকিব (১৪) ও আরিফুল ইসলাম (১৬)-কে গাজীপুরের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিল আয়োজনের কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্তে আরও তথ্য বের করতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ আরও দাবি করে, আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি তারা পুনরায় আত্মগোপনে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের হেফাজতে রাখার আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে কারাগারে এবং চার অপ্রাপ্তবয়স্ককে শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে বনানী থানার ডলফিন ভাস্কর্য ও আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল জড়ো হয়। তারা সেখানে মশাল মিছিল ও নাশকতার চেষ্টা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশের একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দলের অন্য সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে নাশকতায় ব্যবহারের অভিযোগে ৭০টি মশাল, একটি ব্যানার ও ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বনানী থানার উপ-পরিদর্শক সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে আটক সাতজনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
জ/উ