জ্ঞাত আয়ের বাইরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে মতিউর রহমানকে হাজির করে অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে দুদকের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এবং আসামির পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রসিকিউটর আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে। এতে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ২০২৪ সালে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামে এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ছাগল কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সূত্র ধরে মতিউর রহমান ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
জ/উ