দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ও মজুদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জানিয়েছেন এলপি গ্যাস আমদানিকারক ও অপারেটররা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অপারেটরদের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশে এলপিজির বর্তমান আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজারদরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে সভাটির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুদের পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। এ অবস্থায় বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই বলে সভায় নিশ্চিত করেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা।
তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও গ্রাহক পর্যায়ে যাতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুদ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেন তিনি।
অপারেটররা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
মতবিনিময় সভায় অপারেটররা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয়ও মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে জ্বালানি বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলপি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
জ/শা