চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুইজনের একজন ছিলেন তিনি। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন ডেভিড ইমন। পরে পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে আবার ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় মাঠে অনুশীলনের পর তিনি নগরীর চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। বাঁহাতি লেগ স্পিনার (চায়নাম্যান) হিসেবে তার সুনাম ছিল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নেট বোলার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির সাবেক কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন। তবে ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই তিনি খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হলেও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেননি ইমন। করোনাকালীন সময়ে তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ওমানে গেলেও দেশে ফিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যান এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর অক্সিজেন এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে তিনি বড় সাজ্জাদের নজরে আসেন। এরপর ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তার নাম সামনে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া খুন, পতেঙ্গা এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীর জোড়া খুন, চান্দগাঁওয়ের আফতাব হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ জুলাই নগরীর বাকলিয়া এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে বিদেশি নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতার কারণে অপরাধ জগতে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেন ইমন। গ্রেফতারের পর তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জ/উ