কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের : যুক্তরাষ্ট্র

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

2026-09-26T13:54:01+06:00
2026-09-26T13:54:01+06:00
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অন্যান্য
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের : যুক্তরাষ্ট্র
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিচার নিয়েও ওয়াশিংটনের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই বলে জানিয়েছে দেশটি।

গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে আয়োজিত এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নিতে চায় না। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।

শেখ হাসিনার বিচার ও দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কারণ হয়ে আছে। ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা করে ওয়াশিংটন।

শেখ হাসানাকে নিয়ে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। পরে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে উৎসাহ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে—এমন প্রসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করতে চায় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর খাতে বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব ব্যবস্থাগুলো সুরক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিকল্প ব্যবস্থা দিতে চায়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আপনাকে এটি বা সেটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প দিতে চাই, বিশেষ করে তাদের স্পর্শকাতর খাতগুলোতে।’

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক গতিপথে
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বিমান খাত এবং বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে তুলে ধরেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে এসব কথা বলেন।

মরিসন বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা একটি ভালো অবস্থানে রয়েছি।’ তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মরিসন বোয়িংসংক্রান্ত একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টও বৃহস্পতিবার সকালে তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মরিসন। তিনি বলেন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে এই এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার এ উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ রয়েছে।

মরিসন বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও চুক্তিগুলোকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিস্তৃত অগ্রগতির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
অন্যান্য - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]