হত্যা নিশ্চিত করে মোজাফফর জিওসি মঞ্জুরকে বলেছিলেন ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’

নিউজ ডেস্ক

আইন-আদালত

2026-07-17T15:17:39+06:00
2026-07-17T18:33:24+06:00
সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আইন-আদালত
হত্যা নিশ্চিত করে মোজাফফর জিওসি মঞ্জুরকে বলেছিলেন ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’
নিউজ ডেস্ক
⏲ ৩:১৭ পিএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬ | শুক্রবার
হত্যা নিশ্চিত করে মোজাফফর জিওসি মঞ্জুরকে বলেছিলেন ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’
১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। 

১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার এড়াতে তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেন। এ সময় ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। পরে গোপনে দেশে ফিরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত