নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান এবং বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আপিল বিভাগে মামলাগুলোর শুনানি এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশের বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এখন মামলাগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শেষে শুনানি দ্রুত শুরু করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
রাষ্ট্রপক্ষের এ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৫ জনের সাজা বহাল রাখার হাইকোর্টের রায়, সিনহা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় এবং আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার চার সহযোগী, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্য নয়জনের কারাদণ্ডও বহাল থাকে। মামলাটি এখন আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
এ হত্যা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
হাইকোর্ট ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বহুল আলোচিত এই তিনটি হত্যা মামলার আপিল শুনানিতে অগ্রগতি আসতে পারে। তবে শুনানি ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
জ/বা