বেনাপোল প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-06-30T16:49:55+06:00
2026-06-30T16:49:55+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
ঝিকরগাছায় ৪ দুধ বিক্রেতাকে জিম্মি করে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম 
দুধে ভেজালের অভিযোগ তুলে চার দুধ বিক্রেতাকে একটি চিলিং সেন্টারের কক্ষে  জিম্মি করে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের এএসআই আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সমঝোতা ও মধ্যস্থতা করেন থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া। এ ঘটনায় এএসআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা নেয়া হয়নি উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগের কপি ছিঁড়ে ফেলেন এএসআইয় আজিজুল। ভুক্তভোগীরা হলেন- উপজেলার বারবাকপুর ঘোষপাড়া গ্রামের তুষার ঘোষ, অশোক ঘোষ, মিলন ঘোষ এবং তাদের ভাগনে উজ্জ্বল ঘোষ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২২ জুন রাত ১০ টার দিকে তুষার ঘোষ বারবাকপুর হাটখোলা বাজারে প্রাণ কোম্পানির চিলিং সেন্টারে দুধ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় পূর্ব থেকে সাদা পোশাকে ও পেতে থাকা এসআই আজিজুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. আশিক দুধে ভেজাল আছে বলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে একে একে অশোক ঘোষ, মিলন ঘোষ ও উজ্জ্বল ঘোষ দুধ নিয়ে আসলে একই অভিযোগে তাদেরকেও একই কক্ষে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় প্রাণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা পরীক্ষা করে দুধে ভেজাল নেই বলে জানান। তবে তা মানতে নারাজ এএসআই আজিজুল। এ সময় তিনি আঙুল দিয়ে দুধ পরীক্ষা করে বলেন, দুধে হরলিক্স মেশানো।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঘটনার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন বারবাকপুর শেখপাড়া গ্রামের মনি শেখের ছেলে কামাল হোসেন। পরে তার মধ্যস্থতায় ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এএসআই আজিজুল। পরে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় রফা হয়। তবে এই মুহূর্তে এত টাকা কোথায় পাবো, টাকা সকালে ম্যানেজ করে দিবো বলে অনুনয়-বিনয় করেন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে মধ্যস্থতাকারী কামাল এএসআই আজিজুল ও কনস্টেবল আশিকের হাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেয় এবং ১৫ হাজার টাকা বাকি রাখেন। শর্ত থাকে সকালে ভুক্তভোগীদের বাড়ি থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা কামাল নিয়ে আসবেন। পরবর্তীতে প্রাণ কোম্পানি দুধে কোনো ভেজাল না পাওয়ায় সেই দুধ গ্রহণ করে। তৃতীয় ব্যক্তি কালাম হোসেন সব সময় থানার মোড়ে থাকেন। এলাকায় তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত।

ভুক্তভোগী তুষার ঘোষ জানান, সকালে বাড়িতে গিয়ে ঘুষের সেই টাকার জন্য চাপ দেন স্থানীয় কামাল হোসেন। পরে ৪ জন বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা করে কামালের হাতে সম্পূর্ণ টাকা তুলে দেই। তিনি বলেন, আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে একটি পক্ষ। পরে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলাপ করে আমরা থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেই। ২৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানার ডিউটি অফিসারের কাজে জমা দেই।  পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় তিনি তা নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমন সময় আমাদেরকে থানার ভেতরে ডেকে নিয়ে যান এএসআই আজিজুল ইসলাম। সেখানে নিয়ে তিনি আমাদের ভয়ভীতি দেখান এবং অভিযোগের কপিটি ছিঁড়ে ফেলেন।

তুষার ঘোষ আরও বলেন, পরবর্তীতে গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে আমরা এক সংসদ সদস্যের শরণাপন্ন হই। তিনি ওসিকে ফোন করে বিষয়টির সমাধান করতে বলেন। ওসি আমাদেরকে থানায় ডেকে নিয়ে বিষয়টির সমাধান করে দেন। পরে ঘুষের সব টাকা ফেরত দেন পুলিশের এএসআই।

বারবাকপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে কপি ছিড়ে ফেলেন অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল ইসলাম। পরে তারা আমাকে জানালে স্থানীয় অন্যান্য বিএনপি নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নারী সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানার কাছে যাই। পরে ওসি আমাদের সামনে এএসআই আজিজকে ডেকে এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত দিতে বলেন এবং পরের দিন এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

এবিষয়ে প্রাণ কোম্পানির ঝিকরগাছার এরিয়া ম্যানেজার বলেন, বারবাকপুর চিলিং সেন্টারে কোম্পানির প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, সেন্টারে পুলিশ এসে দুধে ভেজাল আছে বলে তদন্ত করছে। আমি তাকে পরীক্ষা করতে বলি। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা করেছি, তবে কোনো দুধে ভেজাল নেই। তবুও পুলিশ শুনছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে রাত ১১ টার দিকে আমি সেন্টারে যাই। ততক্ষণে পুলিশ চলে যায়।

অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল ইসলাম জানান, আমি বাগেরহাটে বদলি হয়ে এসেছি। এই বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।  

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, যিনি এই অপরাধটি করেছেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে বাগেরহাটে বদলি করা হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআইকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও এ ঘটনায় থানার প্রধান হিসেবে ওসিরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। উনার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন? এবিষয়ে জানতে চাইলে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি আরিফ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]