ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেস্বর) ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে স্টেশনটির কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল রপ্তানি ব্যাহত হলেও এই পাইপলাইন সৌদি আরবের সরবরাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। মিশরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরেও কয়েক দিনের মজুত রয়েছে। তবে এসব মজুত পূর্ণ নয়। পাইপলাইন চালু না হলে শেষ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে যাবে।
রয়টার্সকে দেওয়া সূত্রগুলোর হিসাবে, পাইপলাইন মেরামতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত মেরামত করে আংশিকভাবে তেল সরবরাহ চালুর সম্ভাবনাও
এদিকে হামলার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে উঠেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দামও শুক্রবার রেকর্ড ছুঁয়ে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের বেশি হয়েছে।
ইরানপন্থি হুথিদের সৌদি তেল অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলে হামলা এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে। একই সময়ে ওমানের উদ্যোগে নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠকও ঐকমত্যের স্বার্থে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ/রা