গোপালগঞ্জের কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজে শিক্ষা প্রদানের বদলে চলছে মামলাবাজী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

2026-05-09T09:43:17+06:00
2026-05-09T09:43:17+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
গোপালগঞ্জের কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজে শিক্ষা প্রদানের বদলে চলছে মামলাবাজী
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:৪৩ এএম 
গোপালগঞ্জের কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজে শিক্ষা প্রদানের বদলে চলছে মামলাবাজী
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজে শিক্ষকদের দলাদলি আর মামলাবাজীতে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে বর্তমানে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষার্থী রয়েছে ৪০ জন। ওই কলেজটির মোট শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা মোট ২২ জন।

এসব তথ্য জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ দাবী করে বিপ্রদাস সরকার বলেন, অনেক সম্ভাবনা নিয়ে চালু হওয়া কলেজটি এখন শেষ হতে চলেছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয় ২০২২ সালের ৬ জুলাই। তবে এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী এমপিওভুক্ত হতে পারেন নাই। কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসেনা। হাতেগোনা দুএকজন শিক্ষক আসেন। তবে কোনো ক্লাস চলে না। 

এক সময় আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে আমিও কলেজে যেতে পারছিনা বিরোধী শিক্ষক দলের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারনে। আমি দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছিলাম সাবেক অধ্যক্ষ মনিশ বল, গৌরী রানী বসু, প্রোশিষ বল প্রমুখ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। পরে হিমাংশু বলের নামও মামলায় তদন্ত সাপেক্ষে অন্তর্ভুক্ত হয়। মামলা দুটির রায় সাপেক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে আমাকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের নোটিশ দেয়া হয় গত ২২ জানুয়ারী তারিখে।


নোটিশ প্রাপ্তীর পর আমি দায়িত্ব গ্রহন করতে গেলে শিক্ষক প্রোশিষ বল ও তার পক্ষের শিক্ষক-কর্মচারীরা আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। তারা অশালীন আচরন করে। আমার বাড়ী মাদারীপুর জেলায়।  শিক্ষক প্রোশিষ বলসহ কয়েকজন কৃষ্ণপুর গ্রামের লোক। সেকারনে তারা যা খুশি তাই করে চলেছে। প্রোশিষ বল আমাকে বাদ দিয়ে বর্তমানে শেখর চন্দ্র বিশ্বাস নামে একজনকে দিয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। তার এতো ক্ষমতা তিনি জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মানেন না।

প্রোশিষ বল ও শেখর বিশ্বাস আমার নামে বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগ বানিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজের কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি কৌশিক আহমেদের কানভারী করছে। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আয়ব্যয়ের হিসেব দেই না বলে তাদের অভিযোগ। অথচ তারা আমাকে কলেজে যেতেই দেয়না। প্রোশিষ বল ও শেখর বিশ্বাস শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে এমপিওভুক্ত করে দেবে বলে মোট ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রোশিষ বল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও তিনি এখনও তার প্রভাব বিস্তার করে চলতে চান। ইতিপূর্বে প্রাক্তন অধ্যক্ষ মনীষ বল ও তার স্ত্রী গৌরী বসু শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে মোট ৪৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমপিওভুক্ত করে দেয়ার কথা বলে। পরে তারাও চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন। তারা কাউকে টাকা ফেরত দেন নাই। বর্তমানে কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত চলমান রয়েছে।


কলেজটির জমি দাতাদের একজন গৌর বল বলেন, আমি এবং আরও কয়েকজন মিলে কলেজটির জন্য মোট একশত শতাংশ জমি দিয়েছিলাম। অনেক আশা ছিলো কলেজে আমাদের সন্তানরা শিক্ষা গ্রহণ করবে। কিন্তু এখন দেখছি কলেজে শুধু দলাদলি আর মামলা চলছে। শিক্ষক  প্রোশিষ বল ও অন্যরা আমাদের কয়েকজনের কাছ থেকে কিছু জমি দানপত্র ও কিছু জমি সাফ কবলা মুলে খরিদ দেখিয়ে নিয়েছে কলেজের জন্য। কিন্তু আমরা প্রথম থেকেই জমি দানপত্র করে দিতে চেয়েছিলাম। প্রোশিষ বল কৃষ্ণপুর গ্রামের সন্তান হয়েও এমন চালাকি কেনো করলো তা বুঝতে পারছি না। তবে মনে হয় প্রোশিষ চায়না যে ওর অপছন্দের কেউ জমিদাতা হিসেবে কমিটিতে থাকুক। সেকারনেই হয়তো সে দানপত্রের বদলে জমি সাফকবলা করে নিয়েছে কলেজের জন্য। যাইহোক আমরা চাই কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসুক।

এসব ব্যাপার নিয়ে কলেজের স্বঘোষিত অধ্যক্ষ শেখর চন্দ্র বিশ্বাস এবং তার সহযোগী প্রোশিষ বলের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানান কোনো সময়েই তারা শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নেন নাই এমপিওভুক্ত করে দেয়ার কথা বলে। তবে তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খুশি করে কাজ আদায়ের জন্য কিছু টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে কলেজটি দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে তাদের ধারণা রয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষ মনিষ বল বা তার স্ত্রী গৌরী বসুর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি ওই দুই শিক্ষক।

এসব ব্যাপারে জানার জন্য কৃষ্ণপুর সপ্তদশ পল্লী কলেজের কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সাথে আলাপ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি অপর প্রান্ত থেকে সাড়া দেননি। 

জ/দি





Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]