গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-01-18T10:40:30+06:00
2026-01-18T10:40:30+06:00
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪০ এএম 
গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান ও সিসিকে চান ট্রাম্প
গাজায় যুদ্ধবিরতি–পরবর্তী শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে তুরস্ক ও মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানকে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আঙ্কারা ও কায়রো—উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে।

গাজা ইস্যুতে নিজের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ধারণা তুলে ধরেন ট্রাম্প। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এ পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সম্মতি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন করা হবে, যার কার্যক্রম তদারকি করবে এই বোর্ড অব পিস।

হোয়াইট হাউস গত শুক্রবার শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের নাম প্রকাশ করে। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় আছেন মার্কিন ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই।

এ প্রেক্ষাপটে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র শনিবার সামাজিকমাধ্যমে জানান, এরদোয়ান এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই দিন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি মিসর সরকার পর্যালোচনা করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খাদ্যসংকটসহ মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং পুরো জনগোষ্ঠী কার্যত বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ইসরায়েলের এই অভিযানে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছেন। তবে ইসরায়েল দাবি করে, হামাসের ওই দিনের হামলার জবাব ও আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা এ অভিযান চালাচ্ছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পর্ষদের অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রথম কাজ হবে গাজাবাসীর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা। তবে শান্তি পর্ষদ ঘোষণার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই বোর্ডকে শুধু গাজা নয়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে দেখতে চান। ট্রাম্পের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ও সংযুক্ত ‘চার্টার’-এ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সুসংহত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে ‘নতুন ও সাহসী পথ’ অনুসরণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক মহলে এ উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে এক কূটনীতিক একে ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতিফলন নেই। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের বিকল্প নয়; বরং এটি একটি পরিপূরক উদ্যোগ, যার বিস্তৃত ভূমিকা আপাতত কেবল ‘আকাঙ্ক্ষামূলক’ পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া পর্ষদের সদস্যপদ নিয়ে অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সদস্য হতে দেশগুলোকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে বলা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস এ দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানায়, সদস্য হতে কোনো ন্যূনতম ফি নেই, তবে ‘স্থায়ী সদস্যপদ’ পেতে নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্গীকার থাকতে পারে।

 জ/জা





Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]