মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের সেরিয়ান জেলায় দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তসংলগ্ন বন ও পিটভূমিতে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া সেরিয়ানসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সেরিয়ানে বায়ুমান সূচক (এপিআই) ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। মালয়েশিয়ার নির্ধারিত মান অনুযায়ী, এপিআই ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির (এএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাওয়াকের পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় অংশে অবস্থিত সারাওয়াক দীর্ঘদিন ধরেই ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান অঞ্চলের বন ও পিটভূমিতে সৃষ্ট দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এবারও ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেরিয়ানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়া সারাওয়াকে তিন দিনের কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বাতাসে ধোঁয়ার ঘনত্ব কমানোর পাশাপাশি দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়াও কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্তন পাঞ্জাইতান জানান, গত ২৬ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে বৃষ্টির সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাটি ও পিটভূমির আর্দ্রতা বাড়ানো, চলমান আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন ও কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন অগ্রাধিকার এলাকায় মোট ৩৪টি উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে।
কৃত্রিম বৃষ্টিবর্ষণ পদ্ধতিতে উপযুক্ত মেঘের মধ্যে নির্দিষ্ট কণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে মেঘে ঘনীভবনের মাত্রা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। দাবানল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণ কমাতেও বর্তমানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশ এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স
জ/উ