বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৪ নভেম্বর) নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে এসব ডলার বিক্রি করা হয়। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে গত সপ্তাহে নিলামের মাধ্যমে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ বিরতির পর সেটিই ছিল এ ধরনের প্রথম নিলাম।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের নিলামে প্রতিটি ব্যাংককে একক বিডের মাধ্যমে সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম আহ্বান করা হয়েছিল। কয়েকটি ব্যাংক এতে অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে নিলামটি বাতিল করা হয়। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে মুদ্রা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকায় ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার নীতি গ্রহণ করেন। পরবর্তী গভর্নরও একই নীতি অব্যাহত রাখেন। এর ফলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। গত ২৯ জুন তা ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
তবে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম কমেছে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ/শা