চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল রিয়াল মাদ্রিদ। গ্রিসের মাঠে স্বাগতিক এইকে এথেন্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অধিনায়ক ফেদে ভালভার্দের দুর্দান্ত গোলে নিশ্চিত হয় রিয়ালের রোমাঞ্চকর জয়।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে গোল করে স্বাগতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান আবুবাকারি কোইতা। তবে ২০ মিনিট পর দারুণ এক গোলে রিয়ালকে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহাম। বিরতির পর ৭৫ মিনিটে স্টাভরোস পিলিওস আবারও এথেন্সকে এগিয়ে দিলে চাপে পড়ে রিয়াল।
কিন্তু এথেন্সের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পিছিয়ে পড়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে গোল করে ব্যবধান ২-২ করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে জয়সূচক গোলটি করেন ভালভার্দে।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়ালের কোচ জোসে মরিনহোর দল টানা দ্বিতীয় নাটকীয় অ্যাওয়ে জয় তুলে নিল। এর আগে রোমার বিপক্ষে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ সাত মিনিটে চার গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিয়াল।
ম্যাচের জয় ছাড়াও ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বেলিংহাম। ২৩ বছর ১২৮ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৬০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। এর মাধ্যমে ২০০৪ সালে সাবেক রিয়াল গোলরক্ষক ইকার কাসিয়াসের গড়া রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। কাসিয়াস ২৩ বছর ১৬৭ দিন বয়সে ৬০ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা সাত মৌসুমে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারও হয়েছেন বেলিংহাম। এ ক্ষেত্রে ২০২২-২৩ মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পের গড়া ২৩ বছর ২৬০ দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক এথেন্স। সাবেক রিয়াল ফরোয়ার্ড লুকা জভিচের পাস থেকে বল পেয়ে আন্তোনিও রুডিগার ও মার্ক কুকুরেয়াকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন কোইতা। তার শটে পরাস্ত হন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
২৮ মিনিটে বেলিংহাম বল জালে পাঠালেও ভিএআর যাচাইয়ের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল। কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস থেকে ১২ গজ দূরত্বে অসাধারণ ব্যাকহিল শটে গোল করেন বেলিংহাম।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি অরক্ষিত অবস্থানে থাকা কুকুরেয়া। লাজারোস রোটার সময়োপযোগী স্লাইডিং ট্যাকলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় এথেন্স। ৬০ মিনিটের পর দুইবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের বাধায় সফল হতে পারেননি এমবাপ্পে।
৭৫ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় এথেন্স। কোইতার বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বল পেয়ে রিয়াল গোলরক্ষক কোর্তোয়ার পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠান স্টাভরোস পিলিওস। এতে গ্যালারিতে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকদের মধ্যে।
তবে তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন এমবাপ্পে। ডেনজেল ডামফ্রিজের ক্রস থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে গোল করে রিয়ালকে আবারও সমতায় ফেরান তিনি। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে এমবাপ্পের আরেকটি শক্তিশালী শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন এথেন্সের গোলরক্ষক আলবের্তো ব্রিনোলি।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে ভালভার্দের বিদ্যুৎগতির দূরপাল্লার শটে জয়সূচক গোল পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এতে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড দেখেন এথেন্সের গোলদাতা কোইতা।
জ/শা