প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ এবং নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে দীর্ঘ পথচলার অসামান্য ত্যাগের গল্প। তাই জীবনের সাফল্যে বাবা-মায়ের অবদান ও সংগ্রামের কথা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
আজ রোববার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের একটি আলোকিত এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে। তবে বর্তমানের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, যেখানে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। তাদের সেই অবদান ও সংগ্রামের কথা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে।’
আইইউটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতি রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও পরিচিতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই ক্যাম্পাসে এসেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা রোবোটিক্স তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করতে পারলেও প্রযুক্তিকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ভর করে মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাজ, মানবজাতি এবং নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিলিকন ভ্যালির বাইরেও আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতিতে ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যবোধ অভিন্ন। তাই জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের হাতে মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেন।
জ/উ