এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

জবাবদিহি ডেস্ক

অর্থনীতি

2026-10-04T16:41:50+06:00
2026-10-04T16:41:50+06:00
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অর্থনীতি
এলডিসি উত্তরণের পরও ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ: ব্রিটিশ হাইকমিশনার
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৪:৪১ পিএম | ৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পরবর্তী তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে। শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় তৈরি পোশাকও থাকবে।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি দুই দেশের মানুষকে সংযুক্তকারী জনগোষ্ঠী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত থেকে শুরু করে ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানি-বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়তা করেছে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ যখন এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের মূল লক্ষ্য এ উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করে তোলা-এমনটি উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’কে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নিরাপত্তা অংশীদারত্ব, যা পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অঞ্চল হিসেবে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও যুক্তরাজ্য স্বীকার করে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন-এ বিষয়ে দুই দেশই একমত।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, এ সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং একমাত্র টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সমাধান হলো পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জের স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ অভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো আর খুব কম দেশই বোঝে।

তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের জন্য কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ইতোমধ্যেই এর প্রভাব অনুভব করছে এবং এর ফলাফল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুভূত হতে থাকবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত