বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি : প্রধানমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-03T11:33:31+06:00
2026-10-03T11:33:31+06:00
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি : প্রধানমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১১:৩৩ এএম | ৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবার
সংগৃহীত ছবি
বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই এ নিশ্চয়তা দিতে পারে।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এ এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সম্মেলনটি এবার পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

চার ধরনের কার্ডে সামাজিক সেবা
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়েই এসব কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রথমে সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। আর ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ চলছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন। একই সঙ্গে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষায় গুরুত্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক ব্যবস্থায়
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, বাস্তব জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিশুদের চরিত্র গঠনে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে জোর
দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান প্রয়োজন।

ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করার কথা জানান তিনি। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপে সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তর করাই লক্ষ্য।

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলোর একটি কৃষিখাত। এ খাতে প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন এবং কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-জলপথ খননের পরিকল্পনা
পানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে বর্তমানে ৫৩টিই বাংলাদেশে রয়েছে।

পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য কমানো, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার কথা বলেন তিনি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় করা হচ্ছে।

মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা জানান তিনি, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান
বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান
বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও বিস্তৃতভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের জন্য আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন বাজার উন্মুক্ত এবং তরুণদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথাও বলেন তিনি।

সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান দেশগুলোকে একত্রিত করেছে। জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক এ অঞ্চলের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা
বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ।

শান্তি ও সম্প্রীতিকে যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এমন একটি এলাকায় পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

জ/উ



Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত