লাটভিয়ায় বড় জয় কুলবার্গের ইউক্রেনপন্থী জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-10-04T12:33:32+06:00
2026-10-04T12:33:32+06:00
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
লাটভিয়ায় বড় জয় কুলবার্গের ইউক্রেনপন্থী জোটের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১২:৩৩ পিএম | ৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী দল ইউনাইটেড লিস্ট। ভোট গণনার ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত ফলাফলে দলটি পেয়েছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতাবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট। দলটি পেয়েছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। আর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সার্বভৌম শক্তি।

শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুলবার্গের প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। নির্বাচনী প্রচারে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব লাটভিয়ার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

লাটভিয়ার স্বাধীনতার পর এটি ছিল দেশটির ১৫তম সায়েমা বা পার্লামেন্ট নির্বাচন। দেশটির পার্লামেন্টে মোট আসন রয়েছে ১০০টি। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশের কিছু বেশি।

জয় পেলেও একক সরকার গঠনের সুযোগ নেই
ইউনাইটেড লিস্ট বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় কুলবার্গের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির নেই। ফলে নতুন সরকার গঠনের জন্য তাকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে।

এর আগে মে মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের ওপর চাপের মধ্যে পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কুলবার্গ সরকার গঠন করেন। ইউক্রেন থেকে বিচ্যুত একটি ড্রোন লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভও সে সময়কার রাজনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করেছিল।

বর্তমান জোটের দুই শরিক দলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় নতুন সরকার গঠনের আলোচনা কুলবার্গের জন্য জটিল হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে লাটভিয়ার ইউরোপপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

দ্বিতীয় লাটভিয়া ফার্স্ট
নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাটভিয়া ফার্স্ট ইউক্রেনকে সমর্থন করলেও জাতীয়তাবাদী ও জনতাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত। দলটি ১৩ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কুলবার্গের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড লিস্টের সঙ্গে তাদের জোট হবে কি না, সে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও স্পষ্ট নয়।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সার্বভৌম শক্তিও ইউক্রেনের জয় কামনা করার কথা বলেছে। তবে দলটির অবস্থান হলো, কিয়েভকে সহায়তায় ব্যয় করা অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হলে তা বেশি কার্যকর হবে। ভোট গণনার পর্যায়ে দলটি প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অবশ্য অন্য বেশ কয়েকটি দল এই দলের সঙ্গে জোট গঠনে আগ্রহী নয়।

বহুদলীয় রাজনীতিতে জোটই ভরসা
লাটভিয়ার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই বহুদলীয় ও খণ্ডিত। দেশটিতে কোনো একটি দলের পক্ষে সাধারণত ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া কঠিন। ফলে নির্বাচনের পর একাধিক দলের সমন্বয়ে সরকার গঠন করাই সেখানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ১৪টি রাজনৈতিক দল। পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য একটি দলকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে ধারণা করা হয়েছিল, সাতটি দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারে।

আংশিক ফলাফলে ইউনাইটেড লিস্টের পাশাপাশি লাটভিয়া ফার্স্ট, সার্বভৌম শক্তি, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স, প্রগ্রেসিভস এবং নিউ ইউনিটি-এই দলগুলো ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ও আসন বণ্টনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। লাটভিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল অনুমোদন করা হবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি বড় ইস্যু
নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপও গুরুত্ব পেয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

তবে রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ইস্যুটি অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর থেকে লাটভিয়া প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার হুমকি
ন্যাটো সদস্য লাটভিয়া রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক ও হাইব্রিড হুমকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির নিরাপত্তানীতি আরও কঠোর হয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারেও রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ, ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

এ কারণে ইউনাইটেড লিস্টের বড় ব্যবধানে জয়কে শুধু কুলবার্গ সরকারের প্রতি ভোটারদের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে লাটভিয়ার নিরাপত্তা ও ইউরোপমুখী নীতির ধারাবাহিকতারও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখন লাটভিয়ার রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-নতুন সরকার গঠনের সময় কোন কোন দল কুলবার্গের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড লিস্টের সঙ্গে জোটে যুক্ত হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

জ/উ



Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত