সার পরিবহনে ঠিকাদারদের দ্বন্দ্ব, মাঠপর্যায়ে সংকটের আশঙ্কা

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

সার ডিলারদের নিয়ে বিতর্কের পর এবার সার পরিবহন ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নন-ইউরিয়া সার পরিবহনের দুটি দরপত্রে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। সে কারণে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে বিএডিসিকে। সময়মতো ঠিকাদার নিয়োগ করা না গেলে আগামী বোরো মৌসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

2026-10-02T11:35:31+06:00
2026-10-02T11:35:31+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
দেশজুড়ে
সার পরিবহনে ঠিকাদারদের দ্বন্দ্ব, মাঠপর্যায়ে সংকটের আশঙ্কা
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১১:৩৫ এএম | ২ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
সার ডিলারদের নিয়ে বিতর্কের পর এবার সার পরিবহন ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নন-ইউরিয়া সার পরিবহনের দুটি দরপত্রে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। সে কারণে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে বিএডিসিকে। সময়মতো ঠিকাদার নিয়োগ করা না গেলে আগামী বোরো মৌসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত মঙ্গলবার ছিল আগের দরপত্র দুটির জমা দেয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা না দেয়ায় নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নতুন দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন আগামী মঙ্গলবার। বিএডিসি বলছে, এবার দরপত্র জমা দেয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার পরিবহন খাতের ঠিকাদারদের দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মিত দরপত্রে অংশ নেয়া কয়েকজন ঠিকাদারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দরপত্র জমা দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আরেকটি পক্ষের দাবি, হুমকির বিষয়টিকে সামনে রেখে কিছু ঠিকাদার নিজেরাই দরপত্রে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন। নওয়াপাড়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ফাইজুর রহমান বকুল ও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্বও এর সঙ্গে যুক্ত বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, সার পরিবহন ঠিকাদারদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতির পেছনে নিজেদের দরকষাকষির ক্ষমতা ও গুরুত্ব বোঝানোর কৌশলও কাজ করছে। বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার পরিবহনের কাজে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় এ খাতে তাদের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এ কারণে সরকারকে নিজেদের গুরুত্ব বোঝাতে ঠিকাদারদের একটি অংশ সম্মিলিতভাবে দরপত্রে অংশ না নেয়ার কৌশল নিয়েছে বলে এই সূত্রের দাবি। 

একজন পরিবহন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দরপত্র জমা দেয়ার আগে বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে তারা সতর্কবার্তা পান। ওই দিন বিএডিসিতে গেলে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার জন্য কিছু লোক সেখানে আসবে বলে তাদের জানানো হয়। এ কারণে তিনি নিজে এবং তাঁর মতো আরও কয়েকজন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে যাননি। এই ঠিকাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন। তবে দরপত্র জমা দেয়ার সময় এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে আগে কখনও পড়েননি। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত স্থানের আশপাশে একদল লোক অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যে একজন ঠিকাদারদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে বলেন, ‘তোরা এতদিন খাইছোস, আর হবে না। এখন আমরা খাব।’ এতে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নিয়মিত ঠিকাদারদের অনেকে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেখানে যাননি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, যারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের পক্ষ থেকেও কেউ দরপত্রে অংশ নেয়নি। মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের সঙ্গে সমঝোতা না করে কেউ যেন দরপত্রে অংশ নিতে না পারে। পরে আপসরফার মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেয়ার সুযোগ তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
এ ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের একটি প্রভাবশালী পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। সংগঠনটির একজন নেতা এ বিষয়ে কলকাঠি নাড়ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে। 

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের তো কোনো সময়ই টেন্ডারবাজির রেকর্ড নেই। সারাদেশে আমাদের ছেলেরা কোথাও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে, এটা কেউ বলতে পারবেন না। তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু হলে সেটি আলাদা কথা। তারপরও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিএডিসি সূত্র জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাধিক দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪০ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই দিনে আরও ৩৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য আরেকটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই এতে অংশ নেয়নি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে সার পরিবহনের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।      

বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পুনরায় দরপত্র দিয়েছি। আগামী মঙ্গলবার জমা দেয়ার শেষ দিন। আশা করি, ওই দিন সবাই দরপত্র জমা দেবেন। দরপত্র জমা দেয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে।’

বিএডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ করা জরুরি। পরিবহনের কাজ সময়মতো শুরু করা না গেলে মাঠপর্যায়ে সার পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সারের চাহিদা বাড়ার সময়ে এ ধরনের জটিলতা তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে।


জ/রা


  বিষয়:   সার  পরিবহন  ঠিকাদার  দ্বন্দ্ব  অস্থিরতা 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত