সোমালিয়ার উপকূলে জিম্মি করা একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পাঁচ নাবিককে হত্যা করেছে জলদস্যুরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ট্যাংকারটি উদ্ধার এবং ১৬ সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সোমালিয়ার কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সোমালিয়ার কর্মকর্তারা পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি অনার ২৫’ ট্যাংকারে পাঁচ নাবিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানের তিনজন, মিয়ানমারের একজন এবং ভারতের একজন নাগরিক ছিলেন।
সোমালিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২১ এপ্রিল দেশটির উপকূল থেকে জলদস্যুরা ট্যাংকারটি জিম্মি করে। জাহাজটিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল ছিল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করার আগেই জাহাজে থাকা জলদস্যুরা পাঁচ নাবিককে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরও চার নাবিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাকিস্তানের তিনজন এবং ভারতের একজন নাগরিক রয়েছেন।
ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কেনিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা অন্য ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া ‘এমটি সিবু ১’ ও ‘এমটি ইউরেকা’ জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকরাও নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
পান্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, ‘এমটি অনার ২৫’ বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। জাহাজটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, এক দশকেরও বেশি সময় পর সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা আবারও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ পরিস্থিতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে আরেকটি অভিযানে ‘এমটি সিবু ১’ নামের একটি ট্যাংকার উদ্ধার করে পান্টল্যান্ডের মেরিটাইম পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওই জাহাজটি গত আগস্টে সোমালীয় জলদস্যুরা জিম্মি করেছিল। সূত্র: আল জাজিরা
জ/শা