সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৩০ বার পেছাল। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় ওই বাসায় ছিলেন তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে শিশু মাহির সরওয়ার মেঘ। পরে নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। আসামিদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন। অন্যরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরে তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় এসআরবি (সাবেক র্যাব)।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআরবি থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, এখন থেকে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স।
এরপর গত ২৩ অক্টোবর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার। ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে।
জ/উ